স্বাধীনতাবিরোধী চক্র জামায়াত-শিবিরকে পুনর্বাসিত করে বাংলাদেশ ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তাদের পুনর্বাসিত করা হয়েছে বলেই আজকে তারা এতো শক্তিশালী হয়েছে। তাদের মোকাবেলা করতেই আজকে হিমশিম খাচ্ছি।

মঙ্গলবার বিকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক।

শহীদুল হক আরো বলেন, ‘প্রত্যেকটা দেশের জনগণের পূর্ব-পুরুষের ইতিহাস জানা অপরিহার্য। তা নাগরিক হিসেবে গর্বিত করে, অনুপ্রাণিত করে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আমাদের গর্বের। সেই ইতিহাস বিকৃতির কারণেই আজ আমাদের এই অবস্থা। ১৯৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছে সেই হত্যাকারীরা আজও সোচ্চার। তারা রাজনীতির মাধ্যমে নিজেদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করে আসছে। তারা দলীয় নেতাকর্মীদের সাহায্য সহযোগীতা করে টিকে থাকতে চাইছে।’

আলোচন সভায় অংশ নিয়ে র্যা বের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ জামায়াত-শিবির ও বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘বিশ্বের অনেক কিছুতে বাংলাদেশ শীর্ষ দশের ভেতরে আছে। এসব করার ক্ষেত্রে কাজ করেছে সাধারণ মানুষ। কিন্তু এই সাধারণ মানুষকে পেছন থেকে টেনে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘রাজারবাগে যারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন তাদের স্মরণে জাদুঘর তৈরির যে প্রক্রিয়া চলছে এবং আজ যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে তা আমাদের পুলিশ বাহিনীকে আরো বেগবান করবে। জাতির যে একটি গৌরবময় অতীত ঐহিত্য রয়েছে এবং সেসময় পুলিশ বাহিনীর যে অপরিসীম ভূমিকা ছিল তা স্মরণে রাখবে বাংলাদেশ।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘ঠাণ্ডা মাথায় আজ যারা নিরীহ মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়ে নৈরাজ্য চালাচ্ছেন তা যেন সেই বুদ্ধিজীবী হত্যার মতো।’

দেশের অভ্যন্তরে স্বাধীনতাবিরোধীদের কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার বক্তব্য রাজনৈতিক বক্তব্য বলে মনে করার কোনো কারণ নেই। কারণ, আজ আমাদের সার্বভৌমত্বের বিষয়। স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়। আমি মনে করি আমাদের স্বাধীনতার সেই যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। আজ যারা দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড করছে তাদের রুখে দেয়ার সময় এসেছে।’

হেফাজতের সমাবেশকে কেন্দ্র করে যারা দেশে তাণ্ডব চালানোর চেষ্টা করছিলেন, তারাও ১৯৭১ সালের সেই দোসরদের বংশধর বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জেএ