কুষ্টিয়ার কৃতি রাজনৈতিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, মুক্তিযুদ্ধকালীন দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জোনাল কাউন্সিল চেয়ারম্যান, কুষ্টিয়া-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রউফ চৌধুরীর স্মরণে নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিকেলে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সাবেক এমপি ও পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান বদরুদ্দোজা গামা।
নাগরিক শোক সভায় আব্দুর রউফ চৌধুরীর স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, সাধারন সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি আহসান হাবীব লিংকন, কুষ্টিয়া ‘ল’ কলেজের অধ্যক্ষ এ্যাড. আমিরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জাফর উল্লাহ খান চৌধুরী, কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ইদ্রিস আলী প্রমুখ।
আব্দুর রউফ চৌধুরীর স্মৃতিচারণ করে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, তার ছেলে ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরামের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিষ্টার রাগীব রউফ চৌধুরী।
বক্তারা বলেন, কুষ্টিয়ার কৃতি রাজনৈতিক, কুষ্টিয়া-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রউফ চৌধুরী শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন না, তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জোনাল কাউন্সিল চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।
সেসময় তিনি কোন দয়া-দক্ষিণার মাধ্যমে জোনাল কাউন্সিল চেয়ারম্যান হিসেবে লাভ করেননি। তিনি তাঁর যোগ্যতা এবং তার কর্মদক্ষতার কারনেই তাঁকে জোনাল কাউন্সিল চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছিলো।
তাকে সাফল্য বয়ে আনার জন্যই তাঁকে এ পদে অধিষ্ঠিত করা হয়েছিলো। সেসময় বিডিআর ডিজি কুষ্টিয়ায় অস্থায়ী হেডকোর্য়ার্টার করে এখানকার ৫’শ যুবককে হত্যার নির্দেশ দেন। আব্দুর রউফ চৌধুরী সেসময় তার তীব্র প্রতিবাদ করেন।
বক্তারা বলেন, কুষ্টিয়া জেলা শাখা ছাত্রলীগের অন্যতম নেতা হিসেবে আব্দুর রউফ চৌধুরী ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এরপর তিনি ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি হন। ১৯৬৩ সালে তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির “গঠনতন্ত্র ও কর্মসূচী” প্রণয়ন সাব-কমিটির আহবায়ক নির্বাচিত হন।
১৯৬৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন উৎসবে গভর্নর মোনায়েম খানের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন এসময় তিনি গ্রেফতার হন। এরপর ১৯৬৬ সালের তিনি কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে তিনি তদানীন্তন পুর্ব পাকিস্থান প্রাদেশিক পরিষদের (এমপিএ) নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধকারীন সময়ে কুষ্টিয়া থানা মোড়ের বাসবভনকে মুক্তিযুদ্ধের দুর্গ হিসেবে ব্যবহার করে হানাদার অন্যতম অবস্থান কুষ্টিয়া থানা ও টিএনটি ভবনে হামলা পরিচালনা করে।
ঢাকা, ১৭ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ





