ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন।
বুধবার ভোররাতে মহেশপুর উপজেলার যাবদপুর ইউনিয়নের লেবুতলা সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- যাবদপুর ইউনিয়নের লেবুতলা গ্রামের মিরাজ মণ্ডলের ছেলে গরু ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম (৩৫) ও জলুলী গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে ফয়জুল (৪৫)।
এলাকাবাসী জানায়, আমিরুল, ফয়জুল ও ফারুক ভারত থেকে গরু আনতে যায়। এ সময় বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি করে। এতে আমিরুল ইসলাম ও ফয়জুল মারা যায়। আহত হন ফারুক হোসেন। আহত ফারুককে যশোর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, লাশ বিএসএফের কাছ থেকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ্য, সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশীদের হত্যা বন্ধে প্র্রতিবেশী দেশ ভারতের পক্ষ থেকে বার বার প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও সীমান্ত হত্যা কখনই বন্ধ হচ্ছে না।
গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর মিডিয়া রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং’-(সিএমআরটি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত মহাজোট সরকারের চার বছরে ২৫০ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে বিএসএফ। এরমধ্যে ২০১২ সালে বিএসএফের হাতে খুন হয়েছেন ৪২ জন, ২০১১ সালে ৩৪ জন, ২০১০ সালে ৭৪ জন এবং ২০০৯ সালে নিহত হয়েছেন ৯৬ জন।
অপর এক জরিপে দেখা যায়, শুধুমাত্র ২০১৪ সালেই ৩৪ জনকে হত্যাসহ ২০৭ জন বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন বিএসএফের হাতে। বিএসএফ গত ২০০০ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে ১০৩৪ জনকে হত্যা করেছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিবছর বিএসএফের হাতে ৬৯ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন।
খোদ ভারতীয় পত্রিকা ‘দ্যা হিন্দু’-তে প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়, আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে ভারতের বিএসএফ গত দশ বছরে এক হাজারের বেশি মানুষ হত্যা করেছে। (সুত্র:- http://goo.gl/I8jwLa)
সীমান্তে নিরস্ত্র বাংলাদেশীদের হত্যাকা- শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে ‘সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ’ নেয়ার আশ্বাস দেয়ার পরও বিএসএফের গুলি বর্ষণ আর নির্যাতন বন্ধ না হয়ে বরং তা অতীতের মতো অব্যাহত আছে। এমনকি ২০১২ সালে বিএসএফের প্রধান বলেছে, “সীমান্তে গুলি বন্ধ হবে না।” (সুত্র:- http://goo.gl/95llO6)
সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এবং নির্যাতন বন্ধের লক্ষ্যে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ২ হাজার ২২০ বারের বেশি পতাকা বৈঠক হয়েছে। কিন্তু এই পতাকা বৈঠক কোনো সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে পারেনি।
ঢাকাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১০ সালে বিএসএফ ৭৪ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে। একই সময় তাদের হাতে ৭২ জন আহত এবং ৪৩ জন অপহৃত হয়েছে। এদের মধ্যে ৫০ জনকে গুলী করে, ২৪ জনকে নির্যাতনের মাধ্যমে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তাছাড়া আহত ৭২ জনের মধ্যে ৩২ জনকে নির্যাতন এবং ৪০ জনকে গুলীবিদ্ধ করে আহত করা হয়।
এর আগে ২০০৯ সালে ৯৮ জন, ২০০৮ সালে ৬২ জন, ২০০৭ সালে ১২০ জন, ২০০৬ সালে ১৪৬ জন, ২০০৫ সালে ১০৪ জন, ২০০৪ সালে ৭৬ জন, ২০০৩ সালে ৪৩ জন, ২০০২ সালে ১০৫ জন, ২০০১ সালে ৯৪ জন বাংলাদেশী নাগরিক সীমান্তে খুন হয়েছেন বিএসএফের হাতে।
অধিকারের আরেক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৫ মাসেই বিএসএফের হাতে ১৩জন বাংলাদেশী নিহত হন, আহত হন আরও অন্তত ৪৬ জন। এছাড়া এই সময়ে ২৩ বাংলাদেশী নাগরিককে অপহরণ করে বিএসএফ।
অপর এক হিসেবে দেখা যায়, ২০১৪ সালে শুধুমাত্র খুলনা বিভাগের সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বিএসএফের হাতে ১৪ বাংলাদেশী নাগরিক নিহত হন।
কেএইচ, কেবি





