কুষ্টিয়ায় দিন দিন পরকীয়া ও বিবাহ বিচ্ছেদের মতো ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। জেলার ছয়টি উপজেলাতেই বহুবিধ কারণে এ ধরনের সামাজিক অবক্ষয় বেড়ে চলেছে।
মেয়েরা দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকা স্বামীকে প্রেমিক বা ভাড়াটে খুনি দিয়ে নির্মমভাবে খুন করতেও দ্বিধাবোধ করছেন না। এ কারণে অবুঝ শিশু সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে বেশির ভাগই বিবাহিত নারী এবং অবিবাহিত যুবকদের মধ্যেই এ ধরনের অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন হচ্ছে।
জেলার সদরসহ, মিরপুর, দৌলতপুর, ভেড়ামারা, খোকসা ও কুমারখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রারদের দেওয়া তথ্যে এসবের প্রমাণ মিলেছে।
বিশেষ করে বিবাহিত নারীরা পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে দীর্ঘদিনের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করে স্বামীকে তালাক দিয়ে অন্য পুরুষের সঙ্গে ঘর বাঁধছেন। মোবাইল ফোনে অথবা কর্মক্ষেত্রে নারীরা এ পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ছেন। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে, সন্তানের প্রাইভেট শিক্ষকের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়াচ্ছেন মায়েরা।
সাম্প্রতিক সময়ে কুষ্টিয়া সদর, মিরপুর, ভেড়ামারা, দৌলতপুর, কুমারখালী ও খোকসা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিত্তশালী পরিবারের গৃহবধূ ও কর্মক্ষেত্রের নারীরা জড়িয়ে পড়ছেন পরকীয়ায়। ফলে সামাজিকভাবে বাড়ছে বিভিন্ন অপরাধ। সংঘটিত হচ্ছে হত্যাসহ নারী নির্যাতন। এসব কারণে কুষ্টিয়ায় একের পর এক বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা বেড়েই চলেছে।
২০১৪ সালের চলতি মাস পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলায় ৩৯৬টি বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। গত বছরেরও আশঙ্কাজনকহারে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া দুই শতাধিক গৃহবধূ বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছেন। এ ক্ষেত্রে পুরুষরা পিছিয়ে আছেন। পুরুষদের চেয়ে নারীরা বেশি বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য বিবাহ রেজিস্ট্রারের নিকট আবেদন করছেন।
নিকাহ রেজিস্ট্রারদের মতে, নারী নির্যাতনের পাশাপাশি পরকীয়াকে বিবাহ বিচ্ছেদ বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অনেক সময় দেখা গেছে, বিয়ের পর স্বামীরা একটু সচ্ছল জীবনযাপনের জন্য স্ত্রীকে রেখে বিদেশে পাড়ি দেয়। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এ স্বামীদের শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর তালাকনামা কপালে জুটছে।
এ বিষয়ে মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়ন নিকাহ রেজিস্ট্রার আবুল কাসেম জানান, সামাজিক চাপ না থাকা এবং ছেলে-মেয়েদের অবাধ মেলামেশার কারণেই বাড়ছে পরকীয়া ও বিচ্ছেদের ঘটনা।
অপরদিকে নিকাহ রেজিস্ট্রারের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী জালাল উদ্দিন জানান, বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আধুনিক মনমানসিকতা, টিভি কিংবা স্যাটেলাইট ও ফেসবুকের বদৌলতে ঘরের গৃহবধূদের মাঝে প্রেম বা পরকীয়ার বিষয়টি বেশি ঘটছে।
জেআই





