নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় লঞ্চডুবির ঘটনায় শিশুসহ আরও ৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৩৫ জনে।

আজ (০৬ এপ্রিল) মঙ্গলবার সকালে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক সালেহ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে মালবাহী কার্গোর ধাক্কায় ডুবে যাওয়া লঞ্চ থেকে সোমবার (০৫ এপ্রিল) বিকেলে আরও ২৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজের সহায়তায় লঞ্চটি তীরে আনা হয়। এরপরই লঞ্চটির ভেতর থেকে লাশ বের করতে শুরু করেন উদ্ধারকারীরা।

গত রোববার (০৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শীতলক্ষ্যা নদীতে মালবাহী কার্গোর ধাক্কায় সাবিত আল হাসান নামে লঞ্চটি অর্ধশত যাত্রী নিয়ে ডুবে যায়। পরে রাতভর অভিযান চালিয়ে উদ্ধারকর্মীরা রোববার ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। সোমবার (০৫ এপ্রিল) ২৩ জন মিলিয়ে গত দুইদিনে মোট ২৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাস্থলে নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারে কাজ করছে বিআইডব্লিউটিএ, কোস্টগার্ড, দমকল বাহিনী, নৌ ও থানা পুলিশের উদ্ধারকর্মীরা। এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

এর আগে নৌপুলিশ কর্মকর্তা মো: ইউনুস জানিয়েছিলেন, নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও কোস্টগার্ডের কর্মীরা উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নিখোঁজদের স্বজনেরা ঘটনাস্থলে আহাজারি করছে। ধারণা করা হচ্ছে, ডুবে যাওয়া লঞ্চের ভেতর আরও মরদেহ আছে। এছাড়া কিছু মরদেহ স্রোতে ভেসেও যেতে পারে।

নারায়ণগঞ্জ নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শহিদুল আলম জানান, রাবিত আল হাসান নামে যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবির ঘটনা ঘটে। চরসৈয়দপুর এলাকায় শীতলক্ষ্যায় নির্মাণাধীন সেতুর কাছাকাছি স্থানে একটি লাইটার জাহাজের ধাক্কায় লঞ্চটি ডুবে যায়। নারায়ণগঞ্জ থেকে যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি মুন্সিগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। ডুবে যাওয়া লঞ্চটির মালিকের নাম আলাল হোসেন৷ তিনি মুন্সিগঞ্জের বাসিন্দা।

লঞ্চের যাত্রী মুন্সিগঞ্জে অধিবাসী অটো চালক দিপু জানান জানান, বড় একটি জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে লঞ্চটি ডুবে যায়৷ তিনি সাতরে তীরে ফিরতে পেরেছেন৷

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চটিতে আনুমানিক ৫০/৬০ জন যাত্রী ছিল।

এমবি