ঈদ মানে খুশি। আর ঈদ মানে আনন্দ। আর এই ঈদের আনন্দকে পূর্ণতা দিতেই স্বামীর কাছে বায়না ধরেছিলেন একটি নতুন শাড়ি কিনে দিতে । আর এটাই কাল হলো গৃহবধূ লাবনীর জীবনে।

এমনি এক নির্মম হত্যার শিকার হয়েছেন, জয়পুরহাট আক্কেলপুরের এক গৃহবধূ লাবনী। এবারের ঈদে স্বামীর কাছে নতুন শাড়ি কিনতে চাওয়ায় লাবণী আক্তার (২৭) নামের এক গৃহবধূকে মারপিটের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় পুলিশ লাবণীর স্বামী আবুল কালাম আজাদ (৩৬), শাশুড়ি হাসনা হেনা (৬১), ননদ লাকী (১৮) ও নাজমাকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, লাবণীর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। আজ সকালে লাবণী স্বামীর কাছে এবারের ঈদের জন্য নতুন শাড়ি কিনে দেওয়ার আবদার করেন। কিন্তু স্বামী ঈদে শাড়ি কিনে দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এই নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে আবুল কালাম আজাদ ও তাঁর বাড়ির লোকজন লাবণীকে মারপিটের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

এদিকে লাবণী মারা যাওয়ার পর তাঁর গলায় রশি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে এ ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন আবুল কালাম আজাদ ও তাঁর বাড়ির লোকজন। এ খবর জানতে পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাবণীর লাশ উদ্ধার করে এবং তাঁর স্বামী, শাশুড়ি ও দুই ননদকে গ্রেপ্তার করে। গৃহবধূ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।

আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ব্যাপারে নিহত লাবণী আক্তারের ভাই ওয়াজেদ আলী থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
এসএম