ন্যায়বিচারের অভাবে বাংলাদেশে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। হামলা, অপহরণ ও হত্যায় পুরো বছরজুড়ে বিকলাঙ্গ দেশটি।

নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘২০১৫ বিশ্ব প্রতিবেদন’-এ এমন মন্তব্য করা হয়।

প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, হত্যাযজ্ঞ, গুম এবং বিধিবহির্ভূত গ্রেফতারের মতো যেসব কাজ করছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে ব্যর্থ হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

সংস্থাটি বলেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে ও পরে সরকারি বাহিনী চরম মাত্রায় নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়েছে, অপরপক্ষে জানুয়ারির ওই নির্বাচন বয়কট ও অবরোধ জোরদার করতে বিরোধী দলগুলো সংঘাত-সংঘর্ষ ও এলোপাতাড়ি হামলায় লিপ্ত হয়েছে।

এইচআরডব্লিউ বলেছে, যথেষ্ট প্রমাণাদি থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন সম্পর্কিত সংঘাত কিংবা অন্যান্য বিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারে নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সরকার।

তবে ওই প্রতিবেদনে একটি ঘটনাকে দৃষ্টান্তমূলক ব্যতিক্রম বলে উল্লেখ করেছে এইচআরডব্লিউ। নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় গত বছর মে মাসে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) কয়েক সদস্যকে গ্রেফতার করার বিষয়টি ভাল চোখে দেখেছে মানবাধিকার সংস্থাটি।

সংস্থার এশীয় অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড এ্যাডামস বলেছেন, র‌্যাবের কয়েক সদস্যকে গ্রেফতারের ঘটনা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, কিন্তু ন্যায়বিচার যে কেবল গুটিকয়েক পছন্দসই মানুষ বা পরিবারভিত্তিক কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট নয়, এটাও নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে।

এ্যাডামস বলেন, সরকারের তাঁবেদারি করছে বিধায় নিরাপত্তা বাহিনীর লাগাম ছেড়ে দিয়েছে সরকার। এমনকি চরম সীমালঙ্ঘনেও সরকার চোখ বন্ধ করে রেখেছে।

ব্রাড এ্যাডামস অবশ্য এও বলেছেন, এটা বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা সে যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন।

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বাল্যবিবাহ ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। আলোচিত হয়েছে রানা প্লাজা ধসের পর শ্রমিক আইন সংস্কার পরবর্তী সংঘাত-সংঘর্ষের কথাও।

এছাড়া নতুন প্রস্তাবিত গণমাধ্যম নীতিমালার সমালোচনা করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

সংস্থাটি বলেছে, এই নীতিমালার মধ্য দিয়ে প্রকাশ ও বাক-স্বাধীনতায় একটা সীমানা টেনে দিতে চাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার, যা অগ্রহণযোগ্য।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ বিশ্ব প্রতিবেদনটি ৬৫৬ পৃষ্ঠায় সম্পন্ন হয়েছে। এটি হিউম্যান রাইটসের বিশ্ব প্রতিবেদনের ২৫তম সংস্করণ। এবার বাংলাদেশসহ ৯০টি দেশের মানবাধিকার ইস্যু ঠাঁই পেয়েছে সংস্থাটির এই প্রতিবেদনে।

জেএ