কুষ্টিয়া শহরের মধ্যে দিয়ে যাওয়া পাঁচটি রেলগেটে প্রতিদিন আটকা পড়ে শতশত মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। শহরের মাঝখান দিয়ে যাওয়া প্রায় তিন কিলোমিটার রেলপথে আছে পাঁচটি রেলগেট। প্রতিদিন মানুষ দিনে অন্তত তিন ঘণ্টা এসব রেলগেটে আটকা পড়ে ভোগান্তি পোহায়।
রেললাইনটিকে কয়েক যুগ ধরে শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার দাবি উঠলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে প্রতিদিন যানজটে নাকাল হচ্ছে শহরবাসী।
রেলওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া রেলস্টেশন থেকে মজমপুর এলাকা পর্যন্ত রেলপথ প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ। এর মধ্যে রাজারহাট, বাবর আলী গেট, কোর্ট স্টেশন, মজমপুর, মতি মিয়া রেলগেটে অনুমোদিত পাঁচটি রেলক্রসিং রয়েছে।
এ ছাড়া বড় বাজার, ইসলামিয়া কলেজ, পৌর বাজার ও মজমপুরে চারটি অননুমোদিত রেলক্রসিং আছে। কুষ্টিয়ার পোড়াদহ-রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পথে প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত আটবার ট্রেন চলাচল করে। প্রতিবার ট্রেন আসা-যাওয়ার ২০ মিনিট আগে সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সকাল ৭টা ৫০ মিনিট, ১০টা ১৫ মিনিট, ১০টা ৫০ মিনিট, ১১টা ৫৫ মিনিট, বিকাল ৪টা, ৫টা ১০ মিনিট, ৭টা ৩০ মিনিট ও রাত ৮টা ৫০ মিনিটে ট্রেন শহরের মজমপুর, বড় বাজার, কোর্ট স্টেশন অতিক্রম করে।
এ সময় সড়কের চারটি রেলগেট বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে দিনের অন্তত তিন ঘণ্টা থমকে থাকে শহরজীবন। যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হতে না হতেই আবার চলে আসে ট্রেন। আবার যানজট। যানজটে আটকা পড়ে শহরবাসী।
কোর্ট স্টেশনের মাস্টার আবদুল কাদের বলেন, একটি ট্রেন কুষ্টিয়া স্টেশনে পৌঁছালে সবগুলো রেলগেট বন্ধ হয়ে যায়। কোর্ট স্টেশনে কয়েক মিনিট ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মো. ইমরান আলী বলেন, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের কুষ্টিয়া শহরের সবচেয়ে ব্যস্ত এলাকা মজমপুর। একবার ট্রেন এলে সড়কে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এ সময় ট্রাফিক পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়।
বিশেষ করে সকাল ১০টা ও বিকাল ৪টার পর বিদ্যালয় ও কর্মস্থলগামীদের আসা-যাওয়া বাধার মুখে পড়ে। রেলগেট খুলে দেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হতে ২০-২৫ মিনিট লেগে যায়।
কুষ্টিয়া চেম্বারের পরিচালক এস এম কাদেরী বলেন, শহরের বড় বাজার ও মজমপুর এলাকায় ট্রেন প্রবেশ করে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে সাধারণত ব্যবসায়ীরা পণ্য আনা-নেওয়া করেন। এতে অনেক ভোগান্তি হয়।
কুষ্টিয়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র মতিয়ার রহমান বলেন, শহর বাঁচাতে রেললাইন অন্যত্র নেওয়ার বিকল্প নেই এবং সেটা যত দ্রুত সম্ভব করা উচিত।
কুষ্টিয়া পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, রেললাইন শহরের বাইরে সরানোর জন্য বিভিন্ন সময়ে রেলওয়ে বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে বিভাগ সম্ভাব্যতা যাচাইও করে গেছে। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেই।
এমকে





