কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর, সাবেক এমপি, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল ওয়াহেদ সাহেবের ২টি জানাযার নামায সম্পন্ন হয়। প্রথমটি অনুষ্ঠিত হয় তাঁর নিজ এলাকা কুষ্টিয়ার মিরপুরে, অপরটি অনুষ্ঠিত হয় কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে। দুটি জানাযাতেই অসংখ্য মানুদের ঢল নামে। জানাযায় সাধারণ মুসল্লিদের পাশাপাশি কুষ্টিয়া ও এর আশপাশের কয়েকটি জেলার জামায়াত-শিবির ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আজ সোমবার সকাল ৮টায় কুষ্টিয়ার পৌর গোরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে তিনি চির নিদ্রায় শায়িত হন।

গত ২২ মার্চ রোববার বাদ ফজর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন সাবেক এমপি বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াহেদ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর।
তার মৃত্যুর খবরে ভক্তদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। শেষ বারের মতো ইসলামী আন্দোলনের এই নেতাকে দেখার জন্য কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং সি ব্লকের বাসায় ভিড় করেন তারা। এসময় দীর্ঘ দিনের সাথী দলীয় নেতাকর্মীদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দেশের উদ্ভুত পরিস্থিতিতে মামলা থাকায় বেশ কিছু দিন ধরে মিরপুর উপজেলার নিমতলা এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। রোববার ফজর নামাজের পর তার বুকে ব্যথা দেখা দেয়। এ সময় স্বজনেরা তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে আনার পথেই তিনি মারা যান।

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
আব্দুল ওয়াহেদ মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের ধলসা গ্রামের মরহুম দানেজ আলীর পুত্র। ৪ ভাই ও বোনের মধ্য তিনি বড়। ছোট বেলা থেকেই তিনি ছিলেন পরোপকারী ও মিশুক। স্কুল জীবন থেকেই তিনি মানুষের সেবায় নিয়োজিত হন। এ সময় তিনি ইসলামী আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন। তিনি ইসলামী দাওয়াতের পাশপাশি মানব কল্যাণে ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করে তিনি কুষ্টিয়া চিনিকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াহেদ জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়ার পর এলাকাবাসীর নিকট আরো বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত সিনেট সদস্য ছিলেন। আব্দুল ওয়াহেদ ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৪ পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে তিনি কুষ্টিয়া-যশোর অঞ্চলের সহকারী অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক । এছাড়া তিনি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে বেশ কয়েকবার কারাভোগ করেছেন। এছাড়া বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন তিনি।

শোক প্রকাশ:
মরহুম আব্দুল ওয়াহেদের মৃত্যুতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর জনাব মকবুল আহমদ, কুষ্টিয়া শাখার আমির অধ্যক্ষ খন্দকার আলী মহসিন, সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক ফরহাদ হুসাইন ও সেক্রেটারি মাওলানা আবুল হাশেম শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন।

নেতৃবৃন্দ মরহুম আব্দুল ওয়াহেদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। এছাড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও ২০ দলীয় জোটের আহবায়ক সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাবউদ্দিন, সাবেক এমপি রেজা আহমেদ বাচ্ছু মোল্লা শোক প্রকাশ করেন।

ইআর