পানির ন্যায্য হিস্যা প্রদানে ভারত সরকারকে আরও উদার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে দৈনিক ভোরের কাগজ ও এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় নদী ব্যবস্থার পরিকল্পিত ব্যবহার ও জল সঙ্কটের সমাধান প্রসঙ্গ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এ আহবান জানান।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত পানি বিজ্ঞানী ও গবেষক অধ্যাপক প্রণব কুমার রায়। এ সময় তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন ও আন্ত:রাষ্ট্রীয় নদীর পানি ব্যবস্থাপনার একটি রূপরেখা তুলে ধরেন।

এ সময় উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা: দীপুমনি, আন্তর্জাতিক পানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড: আইনুন নিশাত,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল মান্নান,বাংলাদেশ-ভারত নদী কমিশনের সাবেক সদস্য মীর সাজ্জাদ হোসেন,প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক সোহরাব হাসান, গবেষক ও কলামিষ্ট আবুল মকসুদ প্রমুখ।

ডা. দীপুমনি বলেন, ভারতের সাথে আন্ত:রাষ্ট্রীয় নদীর পানি বন্টনের সমস্যা একটি ঐতিহাসিক সমস্যা। যেহেতু ভূগোল বদলে ফেলা যায় না, প্রতিবেশি ও বদলানো যায় না। তাই দু’দেশের উদার মানুষিকতা ও পারস্পারিক সহযোগীতার মাধ্যমে কিভাবে সমস্যার সমাধান করা যায় তা খুঁজে বের করতে হবে

এ ক্ষেত্রে পারস্পারিক আস্থা ও বিশ্বাসের যে ঘাটতি রয়েছে তা আগে কাটিয়ে উঠতে হবে। একই সাথে আমাদের আন্ত:মন্ত্রণালয়গুলোতে যে সমন্বিত প্রচেষ্টার অভাব দেখা যায় তা দুর করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা একটি ন্যায় ভিত্তিক অংশিদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাই। বর্তমান সরকার সে কাজটি শুরু করতে পেরেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ভারতের পানি বিজ্ঞানী অধ্যাপক প্রণব কুমার রায়ের সমালোচনা করে প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, ভারত সরকারকে আগে স্বীকার করতে হবে এগুলো যৌথ মালিকানার নদী।

এখানে ভারতের মত বাংলাদেশেরও আইনগত অধিকার রয়েছে। আন্তর্জাতিক নদী ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী আমাদের প্রাপ্য অধিকার আগে দিতে হবে। তারপর আসবে যৌথনদী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাকি সকল সমস্যা সমাধানের বিষয়টি।

আন্তর্জাতিক পানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড: আইনুন নিশাত বলেন, বাংলাদের ৯২ পানি আসে উজানে ভারত থেকে। অথচ ভারতের সাথে বাংলাদেশের যৌথ মালিকানায় ৫৪ টি নদীর মধ্যে ৫১টি নদীতেই ভারত বাধ দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণ করে। সুতরাং এ বিষয়টির সুরাহা না করে বাকি ৮ ভাগ অভ্যন্তরীন পানির সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা সম্ভব হবে না। 

উল্লেখ্য আগামীকাল পশ্চিম বঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর বাংলাদেশ সফরের প্রেক্ষিতে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

মুকুল/এসএইচ