নারায়ণগঞ্জ শহীদ মিনারে সাংস্কৃতিক সংগঠন উন্মেষ আয়োজিত রবীন্দ্র জয়ন্তী অনুষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ মিথ্যাচার বলে দাবি করে করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরকারি তোলারাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্রছাত্রী সংসদে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলন এ দাবি করা হয়।
প্রসঙ্গত, বুধবার নারায়ণগঞ্জ তেল গ্যাস বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা কমিটির নেতা রফিউর রাব্বির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করে মহানগর ছাত্রলীগ। ওই সমাবেশ থেকে শহীদ মিনারে আয়োজিত রবীন্দ্র জয়ন্তীর অনুষ্ঠানস্থল দখল করে ভাঙচুর করার অভিযোগ করেন উন্মেষের নেতারা।
এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ সম্মেলনে মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান রিয়াদ বলেন, নারায়ণগঞ্জের গুটিকয়েক বামঘরানার জনবিচ্ছিন্ন লোকজন ও ঢাকা থেকে আসা কিছু বাম নেতা প্রায়শই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারের বিপক্ষে কুরুচিপূর্ণ, বিতর্কিত সমালোচনা করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, এই জনবিচ্ছিন্ন দলের প্রধান রফিউর রাব্বি নিজেকে স্বাধীনতার পক্ষের লোক পরিচয় দিয়ে জামায়াতের অর্থায়নের পরিচালিত দিগন্ত টেলিভিশন খুলে দেয়ার দাবিতে মানববন্ধনও করেছেন। আবার গিরগিটির মত রঙ পাল্টে নিজেকে সুশীল সাজাতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে সেমিনার করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জের-৫ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিতে সাধারণ ভোটারদের স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তার মনোনয়ন পর্যন্ত বাতিল পর্যন্ত হয়েছিল।
এতে দাবি করা হয়, চেক প্রতারণার মামালায় আদালত রফিউর রাব্বিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া সোনালী ব্যাংকের ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা চলছে।
ছাত্রলীগ নেতারা বলেন, একটি বিশেষ মহলের ইন্ধনে এই ‘আদালত-স্বীকৃত’ প্রতারক শান্ত নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করার এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। সম্প্রতি সংবিধানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবঙ রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলে ধর্মীয় অসন্তোষ সৃষ্টির মত জঘন্য কাজও করেছে তিনি।
তারা বলেন, সম্প্রতি রফিউর রাব্বি শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে শামীম ওসমান এমপি, তার ছেলে অয়ন ওসমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত নাসিম ওসমানের ছেলে আজমীরি ওসমানকে ফাঁসিতে ঝুলানোর মত ভয়ঙ্কর মন্তব্যও করেছেন।
ছেলে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর হত্যাকে পুঁজি করে রফিউর রাব্বি গত তিন বছর সরকার, সরকারপ্রধান ও ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে নানা অশোভন বক্তব্য দিচ্ছেন বলেও ছাত্রলীগ নেতারা অভিযোগ করেন।
তারা বলেন, তৌফিক-ই-এলাহির মতো সৎ ব্যক্তিকে অর্থের বিনিময়ে জ্বালানি উপদেষ্টা করা হয়েছিল বলে রফিউর রাব্বি মন্তব্য করেছেন। আবার দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছেন বলে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি দায়ী করেছিলেন তিনি।
ছাত্রলীগ নেতারা বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হোক সেটা আমরাও চাই। কিন্তু রফিউর রাব্বি এদেশের আইনের ভাষায় ‘খসড়া চার্জশিট’ নামে একটি মনগড়া কাহিনীও সৃষ্টি করেছেন। তার বক্তব্যে মনে হচ্ছে- এদেশের সরকার, আইন, বিচার ব্যবস্থা এমনকি সংবিধানও তার কাছে তুচ্ছ।
তারা দাবি করেন, রফিউর রাব্বির এহেন বক্তব্যের প্রতিবাদ করতেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের উদ্যোগে বুধবার একটি শন্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। ওই সমাবেশে ছাত্রলীগের হাজারো নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
ছাত্রলীগ নেতারা বলেন, এসময় চাষাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উন্মেষ সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষে রবীন্দ্র জয়ন্তীর একটি অনুষ্ঠান হওয়ার কথা জেনে আমরা বিক্ষোভ মিছিলটি চাষাড়া শহীদ মিনারের অভ্যন্তরে জমায়েত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু রফিউর রাব্বির কুশপুত্তলিকা নিয়ে মিছিলটি শহীদ মিনারের কছে আসতেই সেখান থেকে তার লোকজন মিছিল লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।
‘এসময় মিছিলে থাকা শত শত শিক্ষার্থী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে আমরা মহানগর ছাত্রলীগের নেতারা তাদের শান্ত থাকতে বলি’ দাবি করেন তারা।
ছাত্রলীগ নেতারা বলেন, ‘এরপরেও সেখান থেকে ফের ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। এসময় মিছিলের একটি অংশ শহীদ মিনারে প্রবেশ করতে উদ্যত হলে রফিউর রাব্বির ১০/১২ জন পোষ্য ও কয়েকজন বামঘরানার লোক সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।’
সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দিয়ে তারা বলেন, ‘আমাদের মাতৃতুল্য নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আর কোনো কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন বক্তব্য দেয়া হলে তার কঠোর জবাব দেয়া হবে।’
এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাফায়েত আলম সানি, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজন, মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত রহমান বিন্দু,যুগ্ম আহ্বায়ক নাসিম মাহমুদ তপন,কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক তামিম ইসলাম প্রমুখ।
এদিকে মহানগর ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হচ্ছে দাবি করে এই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, জনবিচ্ছিন্ন বামঘরানার কিছু লোক আওয়ামী নামধারী একটি মহলের ইন্ধনে মিথ্যাচার করে শান্ত নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করার পাঁয়তারা করছে।
জারিফ





