স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন হাইসাওয়া প্রকল্পের অর্থায়নে ঠাকুরগাঁও জেলার ১০টি ইউনিয়নে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মানাধীন ১৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টয়লেট সংস্কার কাজ চলছে নামকাওয়াস্তে। প্রকল্প কমিটিকে কাজ করার সুযোগ না দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানগণ নিজেরা নিম্নমানের মালামাল সরবরাহ করে দায়সারা কাজ করে বরাদ্দের অর্থ হরিলুট করে চলেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও দীর্ঘ একমাসেও কোন বিদ্যালয় পরিদর্শন করেনি কমিটির সদস্যরা।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন হাইসাওয়া প্রকল্পের অর্থায়নে ঠাকুরগাঁও জেলার ১০টি ইউনিয়নের ১৩১টি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের হাইজেন ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নকল্পে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যায়ে ১৩১টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
ইউনিয়ন সমূহ হলো রুহিয়া, আখানগর, বড়গাঁও, চিলারং, রহিমানপুর, রায়পুর, জামালপুর, মোহাম্মদপুর, গড়েয়া ও সুখানপুকুরী। টয়লেট সংস্কার ও পানির নলকুপ বা পাম্প স্থাপনের জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ের বিপরীতে ১ লাখ ৮৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়।
বরাদ্দের অর্থ সরাসরি সংশ্লিস্ট ইউনিয়নের সরকারি তহবিলে প্রদান করা হয়।স্যানিটারী মালামাল সরবরাহ করার জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ের নির্মান কাজ বাস্তবায়ন করার জন্য বিদ্যালয়ভিত্তিক পিআইসি কমিটি নামে একটি প্রকল্প কমিটি গঠন করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সভাপতি,একজন ইউপি মেম্বার সদস্য ,একজন হাইসাওয়া কর্মী সদস্য করে ৫ সদস্য উক্ত কমিটি গঠন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী পিআইসি কমিটি নির্মান কাজ সম্পন্ন করার কথা।
কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যানগণ কোন পিআইসি কমিটিকে কাজ করার মতা না দিয়ে নিজেরা লোক লাগিয়ে দায়সারা গোছের কাজ করে চলেছেন। নিম্নমানের মালামাল ও ইট বালি দিয়ে সেপটি ট্যাংক নির্মান ও টয়লেটের পলেস্তারা তুলে নতুন করে পলেস্তারা বসানো হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলার রুহিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খালেদা আখতার জানান, তার বিদ্যালয়ের টয়লেট সং¯কার কাজের জন্য হাইসাওয়ার বরাদ্দ ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। নিজেরা কাজ করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে টাকা ছাড় দেওয়ার জন্য রেজুলেশন দেওয়া হলেও দীর্ঘদিনেও তিনি এক টাকাও ছাড় দেননি।
টাকার পরিবর্তে তিনি লোক পাঠিয়ে নিম্নমানের ইট দিয়ে সেপটিট্যাংকের কাজ করেছেন ও নলকুপ বসিয়েছেন। ১৯৯৪ সালে নির্মিত টয়লেট সমূহ যাতে ভেঙ্গে না পড়ে সেজন্য নতুন করে গাঁথূনি দেওয়ার জন্য ম্যানেজিং কমিটির লোকজন দাবি জানালেও চেয়ারম্যান তার তোয়াক্কা না করে পলেস্তারা তুলে ফেলে নতুন করে পলেস্তারা করছেন মাত্র।
একই কথা জানালেন সদর উপজেলার মুজামন্ডল হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মজলুম পারভেজ। তিনি জানান, তার বিদ্যালয়ের বিপরীতে বরাদ্দ ১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। কিন্তু সামান্য কিছু ইট ও রড দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছেন নির্মাতারা।
ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি বদরুল ইসলাম বিপ্লব জানান, হাইসাওয়ার অর্থায়নে টয়লেটের সংস্কার কাজ শুরু হলেও দায়িত্বশীল অফিস কোথায় বা তদারকির দায়িত্বে কে রয়েছেন খুঁজে পাওয়া যায় না। উপজেলা প্রশাসনও জানেন না । এ বিষয়ে গত জানুয়ারি মাসের সদর উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় আলোচনাক্রমে উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা শিা কর্মকর্তাকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও দীর্ঘ ২ মাসেও ওই কর্মকর্তারা কোন বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন নি।
তদন্ত কমিটির সদস্য সদর উপজেলা প্রকৌশলী নুরুজ্জামান জানান, হাইসাওয়া প্রকল্পের নির্মান বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন তদন্তের নির্দেশ দিলেও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানগণ তদন্ত চাননা । কাজেই প্রকল্পগুলো তদন্ত করলে ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরী হবে বলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে চলছেন।
অপরদিকে হাইসাওয়ার জেলা সমন্বয়কারী আবু সারোয়ার জানান,হাইসাওয়ার অর্থায়নে টেন্ডারের মাধ্যমে ১০টি ইউনিয়নের ১৩১টি বিদ্যালয়ের টয়লেট নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ইতোমধ্যে বেশ কিছু বিদ্যালয়ে কাজ শেষ হয়েছে। বাকি বিদ্যালয়ে কাজ চলছে। তবে ঠিকাদার মালামাল সরবরাহ করবেন এবং পিআইসি কমিটি কাজ করবেন এটাই নিয়ম।
এএইচ





