দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্ট চত্বর থেকে বহুল আলোচিত গ্রিক দেবীর মূর্তিটিসরানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ মে) মধ্যরাতে শুরু হয় মূর্তিটির সরানোর কাজ। রাত ৪টার দিকে মূর্তিটি সরানোর কাজ শেষ হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত ভাস্কর্য সুপ্রিমকোর্ট কর্তৃপক্ষই সরাচ্ছে। ভাস্কর্যটির নির্মাতা শিল্পী মৃণাল হক গভীর রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন,বৃহস্পতিবার তাকে ভাস্কর্যটি সরিয়ে নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। কে এ নির্দেশ দিয়েছেন তার বা সেই প্রতিষ্ঠানের নাম তিনি প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, কে নির্দেশ দিয়েছেন তা আপনারা সবাই জানেন।
উপরের চাপ আছে, আমি বলতে পারব না। শিল্পকর্মটি যাতে ভেঙে না যায় বা নষ্ট না হয় সে কারণে তিনি রাতেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। গ্রিক দেবী নয় এটি শাড়ি পরা বাঙালি নারীর ভাস্কর্য।এর ডান হাতে একটি তলোয়ার আর বাম হাতে দাঁড়িপাল্লা নিয়ে দাঁড়ানো নারী।
সুপ্রিমকোর্ট চত্বরে ভাস্কর্যটি স্থাপনের পর থেকে হেফাজতে ইসলামসহ ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দলের অব্যাহত দাবির মুখে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ভাস্কর্য সরানো হয়েছে।
পবিত্র রমজান মাস শুরুর আগেই ভাস্কর্যটি না সরালে আন্দোলনের হুমকি দিয়ে আসছিল ধর্মভিত্তিক দলগুলো। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ওই সব দল।
তবে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রগতিশীল ব্যক্তিরা ভাস্কর্যটি অপসারণের বিরোধিতা করে আসছিলেন। ভাস্কর্যটি সরানোর প্রতিবাদে রাতেই গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা সুপ্রিমকোর্টের সামনের সড়কেবিক্ষোভ করেন।
একটি সূত্র জানিয়েছে, গণপূর্ত অধিদফতর ভাস্কর্যটি সরিয়ে নেয়ার কাজে সহায়তা করছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে এ কাজ হচ্ছে।
রাত ১২টার পর কয়েকজন শ্রমিক ভাস্কর্য সরানোর কাজ শুরু করেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে সুপ্রিমকোর্টের ভেতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।
এ সময় আদালতের গেটের বাইরে সংবাদকর্মীসহ উৎসুক দর্শকের ভিড় জমে। তবে নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যরা কাউকে আদালত চত্বরে প্রবেশ করতে দেননি।আদালতের বাইরের সড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মুস্তাঈন





