প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখালেন মুস্তাফিজুর রহমান।

বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যা দ্বিতীয় কীর্তি।

শনিবার কলকাতার ইডেন গার্ডেনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪ ওভারে ২২ রান রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন মুস্তাফিজুর রহমান। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটি বাংলাদেশের পক্ষে সেরা বোলিং ফিগার। এর আগে চলতি বিশ্বকাপে সাকিব ওমানের বিপক্ষে ধর্মশালায় ৩ ওভারে নেন ৪ উইকেট।

প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ইলিয়াস সানী টি-টোয়েন্টিতে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন। ২০১২ সালের ১৮ জুলাই সানী নিজের অভিষেক ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৪ ওভারে ১৩ রানে নেন ৫ উইকেট।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে মুস্তাফিজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেরা বোলিং ফিগারের তালিকায় পাঁচে উঠে এসেছেন। এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্বাদশ স্থানে আছেন বাহাতি এ বিস্ময়কর পেসার। বিশ্বকাপে মুস্তাফিজের আগে আছেন অজন্তা মেন্ডিস (৮/৬), রঙ্গনা হেরাথ (৩/৫), উমর গুল (৬/৫), আহসান মালিক (১৯/৫)।

শনিবার ইডেন গার্ডেনে মুস্তাফিজ নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের নাচিয়ে ছেড়েছেন। টাইগার অধিনায়ক মুস্তাফিজকে যখনই বোলিংয়ে এনেছেন তখনই মুস্তাফিজ উইকেটের স্বাদ দিয়েছেন। ইনজুরি থেকে ফিরে এসে এত সাবলীল বোলিং করা কঠিন। কিন্তু মুস্তাফিজ অসাধ্য কাজটি করছেন খুব সহজে। ইনিংসে চতুর্থ ওভারে মুস্তাফিজের হাতে বল তুলে দেন মাশরাফি। প্রথম পাঁচ বলে নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা মাত্র ২ রান নেন। শেষ বলে বাহাতি ব্যাটসম্যান নিকোলকে আউট করেন অসাধারণ এক স্লোয়ারে। প্রথম স্পেলে মুস্তাফিজের বোলিং ফিগার ছিল ১-০-২-১।

দ্বিতীয় স্পেলে নবম ওভারে বোলিংয়ে আসেন মুস্তাফিজ। ওই ওভারেরও শেষ বলে আউট করেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে। ৪২ রান করা উইলিয়ামসন আউট হন বাহাতি পেসারের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে। উইলিয়ামনকে ডানদিকে সরতে দেখে লেগ স্ট্যাম্প থেকে বল মিডল স্ট্যম্পে টার্ন করান মুস্তাফিজ। তাতেই বাজিমাত। উইকেট ভেঙে যায় দ্রুত।

নিজের তৃতীয় ওভার করার জন্যে ১৮তম ওভারে বোলিং আসেন মুস্তাফিজ। প্রথম দুই ওভারের মত তৃতীয় ওভারের শেষ দিকেও নেন আরেকটি উইকেট। এবার মুস্তাফিজে বধ এলিয়ট। অসাধারণ এক কাটারে এলিয়ট কিছু বুঝতে না পেরে এলোপাথারি ব্যাট চালিয়ে দেন। ব্যাটের কানায় লেগে বল উঠে যায় মিড অনে। পিছনে দৌড়ে অসাধারণ দক্ষতায় ক্যাচ দেন শুভাগত হোম।

ইনিংসের শেষ ওভারে মুস্তাফিজের শিকার মিচেল স্টার্নার ও নাথান ম্যাককালাম। দুজনকেই বোল্ড করে সাজঘরের পথ দেখান বাহাতি এ পেসার। শেষ বলে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা থাকলেও মুস্তফিজের বল গ্যালারিতে পাঠান মিচেল ম্যাকক্লেনাঘান।

শেষ বলটি বাদ দিলে মুস্তাফিজ ইডেনে যে কারিশমা দেখিয়েছেন তা অনেকদিন মনে রাখবেন ক্রিকেটপ্রেমিরা।

ওএফ