সড়ক দুর্ঘটনায় রাজশাহী কলেজের তিন ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভ-সমাবেশ করছেন শিক্ষার্থীরা।
১১ দফা দাবিতে সোমবার সকাল ১০টায় কলেজের প্রধান ফটকের সামনে মহানগরীর ব্যস্ততম সড়ক অবরোধ করে এ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
কলেজের মূল ফটকে তালা থাকায় সকালে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী সমবেত হয়ে রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু করেন। কয়েক দফা মিছিল হওয়ার পর সেখানে শুরু হয় সমাবেশ।
সমাবেশে বক্তব্য দেন ছাত্রলীগ রাজশাহী কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম খান ববিন, ছাত্রদল সভাপতি মর্তুজা ফামিন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারভেজ, হারুন, রফিম, আলম, সিমা, বিউটিসহ আরো অনেকে বক্তব্য দেন।
১১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে নির্ধারিত সিটের অতিরিক্ত শিক্ষার্থী বহন করা যাবে না, প্রতি বিভাগে দুইটি করে গাড়ি সরবরাহ করতে হবে, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত চালক নিয়োগ করতে হবে, ফিটনেসবিহীন বাস বন্ধ করতে হবে, পর্যাপ্ত পরিবহণের ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষাসহ সবল একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে, ১ জানুয়ারি থেকে নতুন বাস চালু করতে হবে, নিহত ছাত্রীদের প্রত্যেকের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে অনুদান দিতে হবে, বাসের নির্দিষ্ট রঙ থাকতে হবে, ডিজিটাল আইডি কার্ড বিতরণ করতে হবে, গাড়ির নির্দিষ্ট সিডিউল থাকতে হবে, স্থায়ী বাস টার্মিনালের ব্যবস্থা এবং খুনি চালকের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
বক্তারা বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অদক্ষতার কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। যতদিন পর্যন্ত এসব দাবি না মানা হবে ততদিন আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এদিকে তিন ছাত্রী নিহতের ঘটনায় সোমবার ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ছিল। সব বিভাগেই ছিলো তালা। ক্যাম্পাসে ছিলো শোকের আবহ। শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা নিহতদের স্মৃতি রোমন্থন করছিলেন। সব মিলিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে নিরবতা। নেই প্রাণের উচ্ছ্বাস। সকলেই ছিলেন বিমর্ষ।
উল্লেখ্য, রোববার দুপুর ১টায় রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে রাজশাহী কলেজের তিন ছাত্রী নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ২৫ জন ছাত্রী। আহতদের মধ্যে ১৩ ছাত্রীকে গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহতরা হলেন, রাজশাহী কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদা হক তানিয়া, ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা ও ইতিহাস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী বিউটি খাতুন।
জেএ





