রাজধানীর মাজারকেন্দ্রিক পীরদের এক এক করে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল গ্রেফতারকৃত নতুন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা। তারা এরই মধ্যে একজন মাজারের পীরকে হত্যার ছকও তৈরি করেছিল। গোয়েন্দা পুলিশের তৎপরতার কারণে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মতিঝিলে অভিযান চালিয়ে আল মুজাহিদ অব বাংলাদেশ নামে একটি নতুন জঙ্গি সংগঠনের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
আসামিরা গত কয়েকদিন ধরে একজন মাজারের পীরকে হত্যার পরিকল্পনা করছিল। সংগঠনটির একজন বড় নেতা বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।
এরা হলেন, জহিরুল ইসলাম আনসার ওরফে জহির, খন্দকার রাজেশ সোবাহান ওরফে রাজু, আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে আবির, আব্রাহাম আহমেদ আল-তারেক, মোরশেদুল ইসলাম ওরফে কিং মোর খান, কাজি বাপ্পি আহমেদ ওরফে সাজ্জাদ ওরফে তারেক বিন জিয়া মোল্লা আক্তার মো. মনসুর।
এরা সবাই বিভিন্ন নামে আইডি খুলে কার্যক্রম পরিচালনা করেন। যাতে তাদেরকে গোয়েন্দারা নজরদারি করতে না পারেন।
যেমন চূড়ান্ত লড়াই, কাঁচা মরিচ, আদার ব্যাপারী, মৌমাছি, নিয়মের অনিয়ম, এক টুকরো মেঘ ও সাদা পাতা।
মনিরুল ইসলাম বলেন, নতুন এই জঙ্গি সংগঠনে মোট ২৫ থেকে ৩০ জন সদস্য থাকতে পারে। যাদের ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বড় নেতা এখন কারগারে।
তাকেও এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে। বাকীদের ব্যাপারে তথ্য জানা গেছে। তবে বিস্তারিত জানতে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে রিমাণ্ডে আনা হবে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, রাজধানীতে মাজার কেন্দ্রিক পীর ও তাদের অনুসারীরা দিনের পর দিন শিরক করে আসছে। তারা মুসলমানদের বিভ্রান্ত করছে। তাদের হত্যা করতে পারলে জিহাদে অংশ নেওয়া হবে বলে মনে করেন সংগঠনটির সদস্যরা। এরই অংশ হিসেবে গত কিছুদিন ধরে তারা একজন পীরকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
সেই অনুযায়ী ওই পীরের পিছু নেয়। কিন্তু পুলিশের তৎপরতার কারণে ওই পীর এখন নিরাপদে রয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে সেই পীরের নাম বলা সম্ভব হচ্ছে না।
মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, নতুন এই জঙ্গি সংগঠনটি গত ২ বছর ধরে সংগঠিত হচ্ছে। এদের কিছু সদস্য উচ্চ বেতনে চাকরি করে। বেতনের কিছু টাকা তারা সাংগঠনিক কাজে ব্যবহার করে আসছে। তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনেক ভালো। অনেকের আইটি সম্পর্কেও জ্ঞান আছে।
এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) কিংবা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সঙ্গে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। এটি আল-কায়েদার অনুসারী হলেও আল-কায়েদার ভারতীয় উপ-মহাদেশের (আকিস) সঙ্গে তাদের কোন যোগাযোগ নেই।
অন্য আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, আগে কোন পীর হত্যার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। আগের পীরদের জেএমবি হত্যা করেছিল বলে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এমকে





