জাতীয় অধ্যাপক ও ইতিহাসবিদ সালাহ্‌উদ্দীন আহমেদের নামাজের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (১৯ অক্টোবর) বাদ আছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার নামাজের জানাজা সম্পন্ন হয়।  

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. শামছুজ্জামান খান, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিক্ষামন্ত্রী নরুল ইসলাম নাহিদ প্রমুখ।
 
বিকালে বনানী কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হবে। জানাজা শেষে তার লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্স বনানী কবরস্থানের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছে।

এর আগে রোববার দুপুর পৌনে তিনটার দিকে সালাহ্‌উদ্দীন আহমেদের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়। এরপর একে একে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগসহ সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মেজর জেনারেল জয়নাল আবেদিন ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সাজেদা চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, এসএম কামাল হোসেন, দিপু মনি, সাইফুজ্জামান শিখর ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এসময় সাজেদা চৌধুরী বলেন, আমরা শুধু একজন জাতীয় অধ্যাপককে হারায়নি। হারিয়েছে অনেক গুণী একজন মানুষকে। তার মৃত্যুতে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

জাতীয় অধ্যাপক সালাহউদ্দীনের জানাজা বাদ আছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদে অনুষ্টিত হবে।

ড. সালাহ্উদ্দীন আহমেদ ঢাকার জগন্নাথ কলেজে ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। এখানে কর্মরত অবস্থায় সালাহ্উদ্দীন আহমেদসহ অন্যান্য শিক্ষকরা ছাত্রদের ভাষা আন্দোলনে উৎসাহিত করতেন।

১৯৫৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হবার পর সেখানে তিনি ইতিহাস বিভাগে যোগ দেন। পরে পর্যায়ক্রমে তিনি ওই বিভাগের রিডার ও প্রফেসর পদে উন্নীত হন।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

ড. সালাহ্উদ্দীন আহমেদ শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন। সালাহ্উদ্দীন আহমেদের প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- 'Social Ideas and Social Change in Bengal 1818-1835', 'Bangladesh : Traditional and Transformation', 'বাংলাদেশের জাতীয় চেতনার উন্মেষ ও বিকাশ', 'স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব বরণীয় সুহৃয়' প্রভৃতি।

সালাহ্উদ্দীন আহমেদ বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতিসংঘ সমিতির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের সদস্য-পরিচালক ছিলেন।

জেআই