রাজধানীর কোতোয়ালি থানাধীন এলাকার একটি দোকান থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে চুরি যাওয়া কম্বল উদ্ধার করা হয়েছে।

টঙ্গী থানাধীন নোয়াগাঁওয়ের একটি গোডাউন থেকে বুধবার ভোরে কম্বলগুলো উদ্ধার করে র‌্যাব-১ এর একটি দল।

র‌্যাব-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজমুল হাসান রাজিবের নেতৃত্বে একটি দল অভিযানে অংশ নেয়।

নাজমুল হাসান রাজিব জানান, রাজধানীর কোতোয়ালি থানাধীন ৩ নম্বর সীমসন রোডের বিক্রমপুর গার্ডেন সিটি মার্কেটের শামসুল হকের মালিকানাধীন মেসার্স সালাম অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের দোকান থেকে চার কাভার্ড ভ্যান ভর্তি চায়না কম্বল, ব্লেজার কম্বল এবং লুঙ্গি নিয়ে যায় প্রতারক চক্র। এ ব্যাপারে তিনি গত ২২ আগস্ট র‌্যাব-১ এর উত্তরা অফিসে অভিযোগ দেন।

তিনি জানান, ওই অভিযোগ থেকে জানা যায়- রুবেল এবং আনিসুল হক আরো কযেকজনের সহযোগিতায় বিপুল পরিমাণ চায়না কম্বল, ব্লেজার কম্বল এবং অনুসন্ধান লুঙ্গি সরবরাহ করার জন্য শামসুল হকের ওই দোকানের নামে প্রায় দুই কোটি টাকার ভুয়া কার্যাদেশ জারি করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ জুলাই ২ হাজার ৫০০ পিস চায়না কম্বল, ৩০ হাজার পিস ব্লেজার কম্বল এবং ২ হাজার ৫০০ পিস অনুসন্ধান লুঙ্গি, যার আনুমানিক মুল্য ৭০ লাখ টাকা, রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সিএসডি গোডাউন নম্বর-৩০ এর ঠিকানায় সরববরাহ করার জন্য আদেশ জারি করা হয়।

এই আদেশ পেয়ে শামসুল হক গত ৮ জুলাই ওই মালামাল চারটি কাভার্ড ভ্যানে ভর্তি করে রুবেলের কাছে বুঝিয়ে দেন।

পরদিন তিনি সিএসডি গোডাউনে গিয়ে মাল না পেয়ে এবং পরবর্তীকালে মন্ত্রণালয়ে খবর নিয়ে জানতে পারেন- প্রতারক রুবেল অভিনব উপায়ে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নামে ভুয়া কার্যাদেশ তৈরি করেছেন।

নাজমুল হাসান রাজিব আরো জানান, এ অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-১ তদন্তে শুরু করে। তদন্তে আভিযানিক দলটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, চুরি হওয়া মালামাল গাজীপুরের টঙ্গী থানাধীন নোয়াগাঁওয়ের ৮২ নম্বর বাড়ির গোডাউনে রাখা আছে।

প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে আভিযানিক দলটি ভোর ৪টার দিকে ওই গোডাউনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চায়না কম্বল উদ্ধার করে। যার আনুমানিক মূল্য ৪০ লাখ টাকা।

অভিযানকালে অভিযুক্ত রুবেল র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এমকে