বরিশাল জেলার কৃষকরা ফসলি জমি ও পানের বরজে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে কেঁচোর মল দিয়ে উৎপাদিত ভার্মি কম্পোষ্ট জৈব সার প্রয়োগ করে ভালো ফলন পেয়েছে।
এ সার উৎপাদনের পর সর্বপ্রথম বাজারজাত করে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন জেলার গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের হাতীবাড়ি কৃষক ক্লাবের সদস্যরা। গত ১০ দিনে তারা প্রায় ছয়’শ কেজি ভার্মি কম্পোষ্ট সার বাজারজাত করেছেন।
সার উৎপাদনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকা উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, কৃষি জমিতে রাসায়নিক সারের মাত্রা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিভাগ কৃষকদের মধ্যে জৈব সার ব্যবহারের জন্য ভার্মি কম্পোষ্ট (কেঁচো সার) নামক সার উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা কৃষি অধিদফতরের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন কৃষক ক্লাবগুলোতে জৈব সার উৎপাদনের জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলুর সার্বিক সহযোগীতায় ইউনিয়নের হাতীবাড়ি কৃষক ক্লাবের আদর্শ কৃষক রনজিত বেপারীর বাড়িতে গত নয় মাস পূর্বে ভার্মি কম্পোষ্ট (কেঁচো সার) সার উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি করা হয়।
কৃষক রনজিত বেপারী জানান, কৃষি অফিস ও ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগীতায় নিজ বাড়িতে তিনটি চাকায় ভার্মি কম্পোষ্ট উৎপাদন শুরু করেন। প্রতিটি চাকায় ৪৫ কেজি আধা কাঁচা গোবরের মধ্যে থাইল্যান্ডের একশ’ কেঁচো (প্রতি পিচ তিন টাকা) ছেড়ে দেয়া হয়। সব মিলিয়ে তার তিনটি চাকার ভার্মি কম্পোষ্ট উৎপাদন কেন্দ্র তৈরিতে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
মাত্র দু’মাসের মধ্যে প্রতিটি চাকায় ওই একশ’ কেঁচোর ডিম থেকে কয়েক হাজার বাঁচ্চা কেঁচো জন্ম নেয়। বর্তমানে তার প্রতিটি চাকায় প্রায় আট থেকে দশ হাজার কেঁচো রয়েছে। ওই কেঁচোদের মল থেকেই ভার্মি কম্পোষ্ট সার উৎপাদন করা হয়।
রনজিত বেপারীর ন্যায় প্রায় একই সময় ভার্মি কম্পোষ্ট জৈব সার তৈরির উৎপাদনের কেন্দ্র তৈরি করেছেন একই গ্রামের অনিল গাইন। তিনি জানান, ভার্মি কম্পোষ্ট জৈব সার উৎপাদন করে প্রথম কয়েক মাস নিজে ব্যবহার ও কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করেছেন। রাসায়নিক সারের পরিবর্তে ফসলি জমি ও পানের বরজে ভার্মি কম্পোষ্ট প্রয়োগের মাধ্যমে তিনিসহ অন্যান্য কৃষকেরা পূর্বের চেয়ে ব্যাপক ফলন পাওয়ায় দিন দিন এ সারের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু জানান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সঠিক তত্বাবধানে উৎপাদনকৃত ভার্মি কম্পোষ্ট জৈব সারগুলোর গুণগত মান ভাল হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এ সারের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকদের মাঝে সারগুলো বিক্রয়ের জন্য প্যাকেটজাত করে প্রতি কেজি মাত্র পনের টাকা মূল্যে নির্ধারন করে গত ২১ আগস্ট থেকে বাজারজাত করা হচ্ছে।
চেয়ারম্যান জানান, এ সারের ব্যবহার বৃদ্ধি ও কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মাহিলাড়া ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে পৃথক ভাবে কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সার উৎপাদনে খরচ কম হয় বলে সকলেই এর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় মাহিলাড়া বাজারের সার ব্যবসায়ী তোতা মিয়া জানান, স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ভার্মি কম্পোষ্ট সারের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি গত দশদিনে প্রায় তিন’শ কেজি সার বিক্রি করেছেন। একই কথা জানালেন বাজারের অপর সার বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম।
ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, টইমনিউজবিডি.কম, এসআর





