ধর্ষণ মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন দ্বিতীয় আদালতের বিচারক এ কে এম শহীদ আহমেদ বুধবার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় প্রদান করেন।
রায়ে আসামিকে দুই লাখ টাকা জরিমানাও করেছেন আদালত। জরিমানার এক লাখ টাকা ভিকটিমকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ও এক লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমাদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসামি তিন মাসের মধ্যে স্বেচ্ছায় জরিমানার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দিলে রাজশাহীর জেলা প্রশাসককে নিয়মানুযায়ী আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জরিমানার টাকা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রায়ে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে পিতৃপরিচয় প্রমাণিত হওয়া ভিকটিমের গর্ভজাত শিশুটির (বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী) পিতৃপরিচয় ও আইন অনুযায়ী ভরণপোষণ এবং উত্তরাধিকার নিশ্চিতের নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।
সাজাপ্রাপ্ত আনোয়ারুল হক টিটো বাঘা উপজেলার রোস্তমপুর গ্রামের এমদাদুল হকের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, আনোয়ারুল হক টিটো ভিকটিমকে দশম শ্রেণীর ছাত্রী থাকাকালে প্রাইভেট পড়াতেন। ২০০৩ সালের ৫ মে আসামি ভিকটিমকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ করেন। এতে ভিকটিম গর্ভবতী হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে আসামিকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। কিন্তু আসামি ভিকটিমকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে গর্ভের সন্তান নষ্টের জন্য চাপাচাপি করেন। এ ঘটনায় একই বছরের ৭ আগস্ট ভিকটিম রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরে আদালতের নির্দেশে একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর বাঘা থানায় ভিকটিমের মামলাটি রেকর্ড হয়।
মামলার বিচার চলাকালে আসামি ভিকটিমকে ধর্ষণের ঘটনা অস্বীকার করেন। এ পর্যায়ে আদালত আসামি ও ভিকটিমের গর্ভজাত সন্তানের ডিএনএ টেস্টের নির্দেশ দেন। ডিএনএ টেস্টে ভিকটিমের গর্ভজাত সন্তান ও আসামির ডিএনএ মিলে যাওয়ার পর আদালত ওই রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বিশেষ পিপি ইসমত আরা বেগম। আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অমরেন্দ্রনাথ মুন্না সাহা।
কেএইচ





