আর মাত্র এক রাত। দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসবের অন্যতম দিন ঈদ-উলআজহা।এই ঈদের বিশেষত্ব হলো আল্লাহর রাহে পশু কোরবানী দেয়া।তাই ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা শেষ বেলায় এসে ব্যস্ত সময় পার করছেন কোরবানীর পশু কিনতে।

রাজধানীতে এবার স্বীকৃত পশুর হাট বসেছে মোট ২১ টি। এরমধ্যে সবচেয়ে বড় গাবতলীর পশুর হাট।

রোববার বিকালে গাবতলী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন পশুর হাটে ঘুরে দেখা গেছে বিচিত্র সব চিত্র। হাটের প্রধান ফটকের ডান পাশে বসানো হয়েছে চালান লেখার টেবিল। পাশেই নিরাপত্তার জন্য বসানো হয়েছে পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাবের ক্যাম্প।

বেপারিদেরবহুল প্রতিক্ষার যেন অবসান হবার পালা। দিন গত হয়েছে। এখন আর যে সময় নেই। গরু কেনা আর বাড়ি ফেরা। বেপারিদের গরু বিক্রি আর লাভ লোকসানের হিসেবের পালা।

হাটগুলোতে গরুর দাম বেশি বলে ক্রেতাদের পক্ষ থেকে যেমন অভিযোগ করা হচ্ছিল। তেমনি বিক্রেতা বেপারিদের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছিল ঈদের আগেভাগে তো আর লোকসান করে গরু বিক্রি করা যায় না। বাজারের শেষটা দেখতে চান তারা। তাদের বিশ্বাস শেষ সময় হলেও বাজার জমে উঠবে।

হ্যা সত্যি তাই হলো। শেষ সময়ে রোববার রাজধানীতে জমেউঠেছেকোরবানিরপশুরহাট। তবে বরাবরের ন্যায় গরুরদাম শেষকালেও একটুচড়াযাচ্ছেবলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

বেলাগড়িয়েসন্ধ্যা হতে হতে যেন মানুষের ঢল নেমেছে। ক্রেতা বিক্রেতা মিলে একাকার। বেপারীদেরআশা ব্যবসা এবার কিছুটা হলেও হবে।

গাবতলীপশুরহাটেরপ্রবেশপথেইশামিয়ানাটাঙানো।নিচেরাখাহয়েছে, বেশমোটাতাজাগরু।

নওগা থেকে গরু আনা বেপারি আমিন হাজী জানান, গরু আনছি ৩৫ টা। এরমধ্যে বিক্রি করতে পারছি ১১ টা এখনো ২৪ টা বাকি আছে। তবে তার বিশ্বাস এই রাতেই সব গরু বিক্রি হয়ে যাবে। এরমধ্যে অল্প লাভে কিছু গরুর বায়না নিয়ে রেখেছেন তিনি।

চুয়াডাঙ্গাথেকেগরুনিয়েগাবতলীহাটেএসেছেনআমজাদ আলী। তিনি নিজের ঘরের ৬টি গরু নিয়ে এসেছেন লাভের আশায়। এরমধ্যে ৩টি গরু বিক্রি করেছেন। এরমধ্যে লাখ খানেক টাকা লাভ হয়েছে।সন্ধ্যা না পেরুতেই বাকি গরুগুলো বিক্রি হয়ে যাবে বলে দাবি তার।

মানিকগঞ্জ থেকে আসা জয়নাল বেপারি দুই ট্রাকে ২২টি গরু এনেছেন। এক ট্রাক গাবতলীতে আরেক ট্রাকের গরু যাত্রাবাড়ী হাটে।গতবারেরতুলনায়এবারবাজারভালো। আড়াই লাখ টাকায় একটি গরু বিক্রি করেছেন।

আরও ১৩ টি গরু বিক্রি করতে পারলেও লাভ খুব একটা হয়নি। তবে  সন্ধ্যায় বাজার দেখে মন ভরে গেছে। তিনি জানান, বাকি গুলো বিক্রি করতে পারলে লাভ হবে।

কেরাণীগঞ্জথেকেগাবতলীহাটে হামিম নামে এক ক্রেতা গরু কিনতে এসে বলেন, গতবারের তুলনায় এবার দাম বেশি। গরুর মান ভালো তো দামও বেশি। আবার যেসব দামে পছন্দ হচ্ছে কিন্তু গরুর মানে পছন্দ হচ্ছে না। তবে কি আর করা গরু তো কিনতেই হবে। ৮৭হাজারটাকায় গরু কিনে বাড়ি ফিরছেন তিনি।

হাটসংশ্লিষ্টরা জানান, রাজধানীতেসাধারণতঈদেরআগেররাতেইবেশিগরুবিক্রিহয়েথাকে।এবারও তাই হচ্ছে। যাদেরবাসায়গরুররাখারজায়গাআছে, তারাদুই/একদিনআগেগরুকেনেন।বেশির ভাগ রাজধানীবাসীর গরু রাখার মতো গোয়াল ঘর নেই। তাই আজ বাজার জমে উঠেছে। আজ দশ হাজারের বেশি গরু বিক্রি হবে বলে দাবি তাদের।

আজও সারাদিনে দেশের বিভিন্নজেলাথেকেসড়কওনৌপথেরাজধানীতেকোরবানিরপশুরট্রাকআসতে দেখা গেছে। এবারসবচেয়েবেশিগরু, ছাগলওমহিষএসেছেউত্তরাঞ্চলেরদিনাজপুর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, রংপুরওযশোরথেকে।

বেশিলাভেরআশায়অনেকটাআগেভাগেইরাজধানীতেগরুনিয়েআসছেনবেপারিরা।দেশেরদূর-দূরান্তথেকেআসাএসববেপারিরঅনেকেরইশেষ গন্তব্যএখনগাবতলীরপশুরহাট।

জেইউ, জেএ