ব্লগারদের হত্যা করার অধিকার কাউকে দেওয়া হয় নাই। কে আস্তিক, কে নাস্তিক সেটি নির্ধারণ করবেন আল্লাহ। আমরা কেউ যেন নিজের হাতে এ দায় না নেই। এমনটিই বললেন বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়ের বাবা অধ্যাপক ড. অজয় রায়।

শুক্রবার বিকালে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের দশম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, একটি সশস্ত্র অস্ত্রধারী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে যারা নিজেদের হাতে আইন তুলে নিচ্ছে। আমরা যাদের প্রগতিশীল লেখক বলি, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে তাদের নাস্তিক আখ্যা দিয়ে একের পর এক হত্যা করা হচ্ছে।

ইসলাম প্রগতিশীল ধর্ম উল্লেক করে অজয় রায় বলেন, ‘আমি জানি না! মানুষকে হত্যা করে তারা কীভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চান? আমরা ইসলামের ইতিহাসে দেখলে পাই, ইসলামে একটি গোষ্ঠী অন্য গোষ্ঠীকে আক্রমন করেছে, হতাহত হয়েছে। কিন্তু কখনো হযরত মোহাম্মদ (সা.) বলেননি, অন্য সম্প্রদায়কে আঘাত করতে। আমাদের সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। যেমন ভাবে উনসত্তর সালে রাজপথে নেমেছিলাম সেভাবে নামতে হবে।’

সম্মেলনে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, ছাত্র রাজনীতি যখন চাঁদাবাজী লুটপাটে ব্যস্ত তখন যুবসমাজকে এসব থেকে মুক্ত রাখতে যুব ইউনিয়ন সংঘটিত হয়। তাই যুব ইউনিয়ন তাদের এ আদর্শ ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাবে।

শিক্ষাখাতে যেভাবে ভ্যাট আরোপ করে পণ্যে পরিণত করা হয়েছে তাতে শিক্ষা ব্যবস্থা সংকটে নিমজ্জিত হচ্ছে। সরকারের উচিৎ বরাদ্দ বাড়িয়ে ভ্যাট প্রত্যাহার করা।

যুব ইউনিয়নের সভাপতি কাফী রতন বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাওয়ার সাহস পান না বলেই মুক্তমনাদের হত্যার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে হত্যা করে আন্দোলন দমিয়ে রাখা যায় না। আমরা ঘুষ ছাড়া চাকরি চাই, লুটপাট চাই না। দলীয়করণ চাইনা।

‘দলীয়করণ-লুটপাট-সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতা-সাম্রাজ্যবাদ রুখো’ এ শ্লোগানকে ধারণ করে বিকাল তিনটায় সম্মেলন শুরু হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন অধ্যাপক অজয় রায়।

সম্মেলনে যুব ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল্লাহ আল কাফী রতনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হাসান হাফিজুর রহমান সোহেলের সঞ্চালনায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, যুব সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলন শেষে একটি র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে বাটা সিগনাল, নিউমার্কেট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে শাহবাগ এসে শেষ হয়।

এমআর