খাদ্য বিভাগের কর্মকতাদের সঙ্গে কিছু মজুদদারি প্রতিষ্ঠান অনৈতিক যোগসাজশ করে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে চালসহ খাদ্যদ্রব্য মজুদ করেছে। বিনিময়ে খাদ্যবিভাগের কর্মকর্তারা ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন বলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ এসেছে।মঙ্গলবার কমিশন এই অভিযোগটি অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে ‘দুর্নীতিমুক্ত সরকারি সেবা: দুর্নীতির অভিযোগের প্রকৃতি’ বিষয়ে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা সভায় মঙ্গলবার সকালে এসব তথ্য দেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।
তিনি বলেন, ‘এই অবৈধ মজুদদারির সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে বলে।’
এর আগে সকাল ১০টায় তিনি প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য কমিশনের রাঙ্গামাটি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের নিজস্ব চার তলা ভবনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘কিছু সরকারি কর্মকর্তা এবং অবৈধভাবে খাদ্য সামগ্রী মজুদকারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে ঘুষ-দুর্নীতির মতো অনৈতিক সম্পর্কের কারণে চালসহ খাদ্যপণ্যের মূল্য বাড়ানো হচ্ছে। জনগণের পকেটের টাকা আত্মসাতকারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
দুদক চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেক নাগরিককে আইন মেনে চলতে হবে। আইন প্রণয়ন করা হয় মানার জন্য, ইনফোর্সমেন্ট-এর জন্য নয়। আমাদের সকলকে মনে রাখতে হবে, আমরা কেউই আইনের উর্ধ্বে নই’
ইকবাল মাহমুদ আরো বলেন, ‘বিশ্বে অনেক দেশ রয়েছে যারা অর্থনৈতিক মানদণ্ডে অনেক সমৃদ্ধ। কিন্তু, আইনের শাসনের অভাবে উন্নত দেশের পরিচিতি পাচ্ছে না। কমিশনের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের মূল বার্তা হচ্ছে কেউই আইনের উর্ধ্বে নয়।’
জেলা পর্যায়ের কর্মকতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা সরকারি পরিষেবা প্রদানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য অনেকেই কমিশনে আপনাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, কিংবা হয়রানির অভিযোগ করে থাকেন।’
‘সরকারি কর্মকর্তাদের মনে রাখতে হবে, জনগণকে প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান অনুসরণ করে নির্দিষ্ট টাইম ফ্রেমে সেবা প্রদান করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে এবং কোনো প্রকার দুর্নীতি সংঘটিত হলে দুদক নির্মোহভাবে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে,’ হুঁশিয়ার করেন দুদক চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, ‘কমিশনের এসকল কার্যক্রমের ফলে আপনাদের অনেককে বিব্রত হতে হবে। তাই আমার অনুরোধ থাকবে, নিজেদের আত্মমর্যাদা রক্ষা করতে হলে অবশ্যই নিজেকে ঘুষ-দুর্নীতিমুক্ত রেখে সরকারি দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো চাপের কাছে মাথা নত না করে আইন ও বিধি অনুসরণ করে কাজ করুন।’
রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মোঃ মানযারুল মান্নান এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দুদক সচিব ড. মোঃশামসুল আরেফিনসহ জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা।





