চট্টগ্রামের রাগুনিয়ায় দু’পক্ষের বন্দুকযুদ্ধে কমপক্ষে ১৫ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন ২৭ জন।
উপজেলার হোছনাবাদ ইউনিয়নের মোগলেরহাট এলাকায় মসজিদের জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সোমবার রাত ১০টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসীজানান, উপজেলার হোছনাবাদ ইউনিয়নের মোগলেরহাট এলাকার মোগলবাড়ি জামে মসজিদের একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সে বিরোধকে কেন্দ্র করে রাতে মসজিদ কমিটি ও অনুসারীদের সঙ্গে একই এলাকার মো. কাঞ্চনের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে দু’পক্ষের লোকজন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গুলিবিনিময় হয়। এতে উভয়পক্ষের লোকজন ছাড়াও কয়েকজন পথচারীও গুলিবিদ্ধ হন।
বন্দুকযুদ্ধ চলাকালে কাঞ্চন গ্রুপের ইউসুফ (২৮), কাঞ্চন (১৮), মো. বখতেয়ার হোসেন (২২), মো. রোমেন (২০), মো. আবু ছিদ্দিক (২২), মো. জসিম (২৬), মো. মোহসিন (২৮), মো. রাশেদ (১৮), মো. বেলায়েত (২২), মো. রাহাত (২৭), মো. হান্নান (২৪), মো. আমির হোসেন (২৪), মো. কায়সার (১৮), মো. সেকান্দার (২০) ও মসজিদ কমিটি পক্ষের মো. কুদ্দুছ (২৫) গুলিবিদ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) ওয়ালী উল্লাহ অলি জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আহতরা চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চমেক পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, রাঙ্গুনিয়ায় ভূমি বিরোধের জের ধরে দু’পক্ষের সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের ১২ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে চমেকে ভর্তি আছেন। তবে তারা আশঙ্কামুক্ত। তারা এখন চমেকের ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
হোছনাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান ও মোগলবাড়ি জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি মির্জা নাজিম উদ্দিন খোকন জানান, মসজিদের মালিকানাধীন ও দখলীয় ১২ শতাংশ জমি পাশের ঘাগড়া খীলমোগল গ্রামের মৃত নবী হোসেনের ছেলে মো. কাঞ্চনের কাছে ৫বছর আগে বর্গা দেয়া হয়। এ জমির কিছু অংশ পানি উন্নয়ন বোর্ড খাস করে। বর্গা নেয়া এ জমি সম্প্রতি নিজের দাবি করে মসজিদের খাজনা দেয়া বন্ধ করেন কাঞ্চন। এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে তিনি ওই জমি লিজ নিয়েছেন বলে দাবি করেন। এর জের ধরে রাতে সংঘর্ষ হয়।
ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘মসজিদ কমিটির লোকজনের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না। কারা গুলি চালিয়েছে তা জানি না। হয়ত জায়গা ও দোকান দখল করতে এসে নিজেদের গুলিতেই তারা আহত হয়েছেন।’
ঢাকা, ৯ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএইচ





