বুড়ো বয়সে বিয়ে করে বেশ আলোড়ন সৃষ্টির পাশাপাশি বেকায়দায়ও পড়েছেন রেলপথ মন্ত্রী মো. মজিবুল হক। বিয়ে উপলক্ষে অনেকেই তাকে পেয়ে বসছেন। কেউ পিছিয়ে নেই।
অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও রেলপথ মন্ত্রীর কাছে কুমিল্লার মিষ্টি খেতে চাইলেন। আর অনুষ্ঠানে গণছিনতাই-পকেটমারিং তো আছেই।
জানা যায, আগামী ১৪ নভেম্বর সংসদ ভবন এলডি হলে রেলপথ মন্ত্রীর বৌ-ভাত অনুষ্ঠানে আরো বড় ধরনের খাওয়ার আয়োজন করা হচ্ছে।
পকেটমার আর ছিনতাইকারী প্রতিরোধে ইতোমধ্যে ওই এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু করেছেন। আগামী ১৩ ও ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠানের আগের দিন এবং অনুষ্ঠানের দিন পুরো অনুষ্ঠানস্থলটি সার্বিকভাবে সিসিটিভিসহ নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে বৃদ্ধ বয়সের জাকজমক ভাবে বিয়ে করার আনন্দের সুযোগে দফায় দফায় কুমিল্লার রসমালাই, চমচমসহ বিভিন্ন এলাকার তৈরি মিষ্টির পাশা পাশি ভুরি ভোজ চলছেই। আর এ খাওয়া শুরু হয়েছে রেলপথ মন্ত্রীর বিয়ের ঘোষণার পর থেকেই। কিন্তু এত আনন্দেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মন্ত্রী নিজেও। তবে বড় ধরনের খাওয়া শুরু হয়েছে গত ২৯ অক্টোবর, খামারবাড়ীস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন কমিউনিটি সেন্টারে রেলপথ মন্ত্রীর গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে।
এর পর গত ৩১ অক্টোবর কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার মিরাখলা গ্রামে মন্ত্রীর বিয়ের অনুষ্ঠানে।
যেভাবে বেকায়দায় পড়লেন রেলমন্ত্রী: এদিকে রেলপথ মন্ত্রী রীতিমতো বেকায়দায় আছেন তার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত মেহমানদের মোবাইল, মানিব্যাগ এবং ভেনিটি ব্যাগ রক্ষার বিষয়টি নিয়ে। কারণ মন্ত্রীর বিয়ে উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে থাকেন, আত্মীয় স্বজন, পরিবারের সদস্য, মন্ত্রী, এমপি, দলীয় নেতা কর্মী, তার নির্বাচনী এলাকার লোকজন।
কিন্তু চিহ্নিত ছিনতাইকারী, চোর কিংবা পকেটমারকে তো আমন্ত্রণ জানানো হয় না। আর এসব অপরাধীরা তো কোনভাবেই এসব অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাবার কথাও নয়।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে মন্ত্রীর রাজধানীতে গায়ে হলুদ এবং কুমিল্লায় শশুরবাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত মেহমানদের মোবাইল, মানিব্যাগ এবং ভেনিটি ব্যাগ ছিনতাই ও পকেটমারিং করল কারা।
এদিকে গত ৫ নভেম্বর রেলপথমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মিডিয়ায় পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রীর গায়ে হলুদ এবং বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত মেহমানদের মোবাইল, মানিব্যাগ এবং ভেনিটি ব্যাগ ছিনতাই এবং চুরির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
তবে একই সঙ্গে রেল মন্ত্রীর আগামী ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় (মন্ত্রীর) তার বৌ-ভাত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত মেহমানদের মোবাইল, মানিব্যাগ এবং ভেনিটি ব্যাগ ছিনতাই ও চুরি ঠেকাতে এবার ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভির) নিয়ন্ত্রণে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, গত ২৯ অক্টোবর, খামারবাড়ীস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন কমিউনিটি হলে অনুষ্ঠিত রেলপথ মন্ত্রীর গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে বহিরাগত ও ছিঁচকে ছিনতাইকারী এবং পকেটমারদের উৎপাতে প্রায় অর্ধ শতাধিক আমন্ত্রিত অতিথিদের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, ভ্যানিটিব্যাগ,পার্সসহ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান বস্তু খোয়া যায়।
এছাড়া গত ৩১ অক্টোবর কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার মিরাখলা গ্রামে অনুষ্ঠিত বিয়ে অনুষ্ঠানে প্রায় শতাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তির মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, ভ্যানিটিব্যাগ পার্সসহ প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবান বস্তু খোয়া যাওয়া যায়। আর এঘটনায় রেলপথমন্ত্রী বাধ্য হয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
আগামী ১৪ই নভেম্বরের বৌ-ভাত অনুষ্ঠানটি নির্বিঘ্ন রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারসহ পুরো অনুষ্ঠানস্থল সম্পূর্ণ ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) নিয়ন্ত্রণে নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এ বিষয়ে শতভাগ সহযোগিতা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।
একে, জেএ





