আগৈলঝাড়া উপজেলায় বন্দুকযুদ্ধে ছাত্রদল ও যুবদল নেতা নিহত হওয়ার ঘটনাকে খুন বলে দাবি করেছেন তাদের স্বজনরা। তাদের দাবি বিএনপির রাজনীতি করায় ওই দুজনকে খুন করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি শুক্রবার গভীর রাতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবদল নেতা কবির হোসেন মোল্লা ও ছাত্রদল নেতা টিপু হাওলাদার নিহত হয়েছে।
নিহত কবির হোসেনের বাবা আবুল হোসেন মোল্লা (৭৫)বলেন, কবির ও তার বউ আকলিমা বেগম ঢাকায় গার্মেন্টেসে চাকরি করত। আমার অসুস্থতার খবরে বাড়ি এসেছিল। আমার নিরাপরাধ সন্তানকে পুলিশ হত্যা করেছে। বিএনপির রাজনীতি করাই তার অপরাধ। কবিরের ছোট ছোট দুটি ছেলের এখন কী হবে।
নিহত টিপু হাওলাদারের স্ত্রী সোমা আক্তার আহাজারি করে বলেন, তিন মাসের সন্তান নিয়ে শুক্রবার মধ্যরাতে স্বামীর লাশ দেখতে চেয়েও পায়নি। আমার ২ বছরের আরেকটি মেয়ে আছে। এদের নিয়ে আামি কোথায় দাঁড়াব। বিএনপি করার কারণে আমার স্বামীকে পুলিশ মেরে ফেলেছে।
তবে বন্দুকযুদ্ধে এই দুজন নিহত হওয়ার বিষয় নিয়ে পুলিশ ভিন্ন কথা বলছে। আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার বাইপাস সড়কে ফলবাহী গাড়ি পেট্রোল বোমায় পুড়িয়ে দেওয়ার মামলায় যুবদল নেতা কবির হোসেন ১ নম্বর ও ছাত্রদল নেতা টিপু হাওলাদার হলেন ৩ নম্বর আসামি। মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে এদের অবস্থান নিশ্চিত করে রাজধানীর ওয়াজপুর এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার রাতে তাদের আটক করে পুলিশ। এরপর আগৈলঝাড়াতে এনে তাদের দেওয়া স্বীকরোক্তি অনুযায়ী অন্য সহযোগীদের ধরতে পুলিশ শুক্রবার মধ্যরাতে অভিযান চালায়। এ সময় আটকদের সহযোগীরা গুলি ছুড়লে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। এতে এই দুজন নিহত হয়।
ওসি আরও জানান, শনিবার বিকেলে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আর নিহতদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রয়েছে।
অগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এসএম আফজাল হোসেন বলেন, পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহতরা দলের কোনো পদমর্যদা ভোগ করেন না। তারা সমর্থক মাত্র। বন্দুকযুদ্ধের নামে দুজনকে হত্যা করার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকন কদ্দুসুর রহমান বলেন, বিএনপিকে নিচিহ্ন করার জন্যই এই হত্যা করা হয়েছে।
জেআই





