বাংলাদেশ ন্যাচার এন্ড ইনভায়রনমেন্টাল কাউন্সিলের (Bangladesh Nature & Environmental council) এর উদ্যোগে আজ (০৫) জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীতে 'প্রাকৃতিক পরিবেশ ও আমরা' বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দেশবরেণ্য সাংবাদিক, কলামিস্ট ও দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের সাবেক সভাপতি ও মানারাত আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় এর সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আব্দুর রব।
বিশিষ্ট আইনজীবী ও পরিবেশ কর্মী এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় সেমিনারে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট এর অধ্যাপক ড. রেদওয়ানুর রহমান।
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. আল মুজাদ্দেদ আলফেসানী, দৈনিক দিনকাল পত্রিকার সম্পাদক রেজওয়ানুল সিদ্দিকী, বাংলাদেশ এনজিও ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এ এইচ এ নোমান, সেন্টার ফর এডভান্স রিচার্স ইন ন্যাচারাল রিচার্স এন্ড ম্যানেজমেন্ট এর প্রধান সমন্বয়ক ড. এস. এম. এ. রশিদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ব ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক কাজী. মো. বরকত আলী, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি ও মৎস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. কাজী আহসান হাবীব, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, পদ্মা ব্রিজের কর্মরত অফিসার ড. আনিসুজ্জামান খান, সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন ও মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া, পরিবেশ সাংবাদিক এম এ নোমান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম, সেভ আওয়ার সী সেক্রেটারি মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনইসি’র সমন্বয়ক মু. আব্দুল জব্বার, এডভোকেট এস এম কামাল হোসেন, আতিকুর রহমান প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. আব্দুর রব বলেন, ১৯৭৩ সালে প্রথম পরিবেশ দিবস উদযাপিত হওয়ার পর থেকে এটি এখন বিশ্বের প্রায় শতাধিক দেশে বহুল স্বীকৃত একটি দিবসে পরিণত হয়েছে। পৃথিবী ও প্রকৃতি রক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে প্রতি বছর ৫ জুন দিবসটি পালিত হয়। বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের পিছনে যে উদ্দেশ্য কাজ করে, তাহল পরিবেশ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। আল্লাহর সৃষ্টির সংরক্ষনে প্রাকৃতিক নিয়ম মানায় সকলকে বদ্ধপরিকর হতে হবে। মানুষ পরিবেশ ও এই পৃথিবীর মুল্যবান অঙ্গ। প্রকৃতি ছাড়া মানুষের জীবন অসম্ভব। তাই প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের কথাটা জানা খুবই জরুরি। রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে পরিবেশ ধ্বংস করা কখনোই কল্যাণকর হবে না। এর ফলে পরবর্তী প্রজন্ম চরম ক্ষতির সম্মুখিন হবে।
তিনি আরও বলেন, করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাবের কারণে এবছর ডিজিটাল মাধ্যমেই বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। লকডাউন মানুষের জীবন বিধ্বস্ত করে দিয়েছে ঠিকই, তবে লকডাউন পরিবেশের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এমতাবস্থায় অবশ্যই পরিবেশের প্রতি ইনসাফ ও প্রাকৃতিক বিধানকে প্রাধান্য দিতে হবে। জলাশয় সমূহকে নিরাপদ করে তুলতে হবে। যার যেখানে অবস্থান তথা বন্যদেরকে বনে থাকতে দিন প্রাকৃতিক নিয়ম অনুস্বরণ করুন।
সেমিনারে অন্যান্য বক্তারা বলেন, পরিবেশ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও গুরুত্বের সাথে করোনা সংকটে বিপর্যস্থ পরিস্থিতিতেই পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। বিগত কয়েক বছর যাবৎ আমার দেখছি, শুনছি এবং পড়ছি, বিশ্বে পরিবেশ দূষণের সমস্যা ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করছিল। মানুষ তাদের বিভিন্ন সুবিধার জন্য পরিবেশ ধ্বংস করেছে। বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের মূল কারণ হ'ল পরিবেশ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা। পরিবেশ ধ্বংসের কারণে সৃষ্ট সমস্যাগুলো মোকাবিলার জন্য একটি বিশ্বব্যাপী প্লাটফর্ম তৈরি করা হয়। অথচ দেখা যায় পরিবেশ রক্ষায় যাদের অগ্রণী ভুমিকা পালন করার কথা অর্থাৎ আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, ভারত সহ পৃথিবীর সাম্রাজ্যবাদী সেই দেশ গুলোই পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।
পরিবেশ সচেতনতা তৈরির জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জের সবচেয়ে বড় মঞ্চ হল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। চলতি বছরের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের ভাবনা জীববৈচিত্র। এবছরের আয়োজক দেশ কলম্বিয়া। জার্মানির সহযোগে তারা আয়োজন করবে মূল অনুষ্ঠান। গোটা বিশ্বের জীববৈচিত্রের ১০ শতাংশই রয়েছে কলম্বিয়ায়। অ্যামাজন রেইনফরেস্টের একটা বড় অংশ রয়েছে কলম্বিয়ায় এবং পৃথিবীর পক্ষী ও অর্কিডের বৈচিত্রের নিরিখে প্রথম এই দেশ। উদ্ভিদ, প্রজাপতি, স্বচ্ছ জলের মাছ এবং উভচর বৈচিত্রের নিরিখে কলম্বিয়ার স্থান বিশ্বে দ্বিতীয়। একটি গবেষণা জানা যায় যে প্রায় দশ লক্ষ জীববৈচিত্র বিলুপ্তির পথে। আশঙ্কার বিষয় হল, বিশ্বের মোট জীববৈচিত্রের প্রায় ৯৮ শতাংশ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জীববৈচিত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। পৃথিবীতে খাদ্য, জল ও খনিজ দ্রব্যাদির যোগান ঠিক রাখে জীববৈচিত্র। পাশাপাশি জলবায়ুর পরিবর্তন, দূষণ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা এবং পৌষ্টিক উপাদানগুলো সঠিকভাবে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলায় গোটা বাস্তুতন্ত্রের জীববৈচিত্র রক্ষা করা ভীষণ জরুরি। এমতাবস্থায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ ও ভুমিকা পালন করতে হবে। -প্রেস বিজ্ঞপ্তি
এএস





