সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মরদেহ রংপুরের পল্লী নিবাসে নয়, ঢাকার সামরিক কবরস্থানেই দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার ছোট ভাই ও পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

কাদের বলেন, “উনাকে (এরশাদকে) রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বনানীর সামরিক কবরস্থানেই দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

মঙ্গলবার এরশাদের মরদেহ হেলিকপ্টারযোগে রংপুরে নেওয়ার প্রাক্কালে ঢাকায় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন জিএম কাদের।

এসময় এরশাদের ‘শেষ ঠিকানা হবে রংপুর, প্রিয়নেতা এরশাদকে রংপুরে সমাহিত করতে হবে’ লেখা স্লোগান সম্বলিত প্লেকার্ড নিয়ে ভিড় করেন নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে বাকবিতন্ডায় জড়াতে দেখা গেছে নেতাকর্মীদের।

কাদের বলেন, “এটি সামরিক কবরস্থান হলেও ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে নয়। এখানে যাওয়া-আসায় কোনও বাধা নেই। এখানে আমার নিজের বোনের কবর আছে। ভাগিনার কবর আছে। রাত-দিন যেকোনও সময় এখানে যাওয়া যায়। পাশে মসজিদ আছে। সুন্দর জায়গা আছে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকায় জায়গাটা অত্যন্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং এখানে সবকিছু সুশৃঙ্খলভাবে করা হয়।”

তবে রংপুরের মেয়র ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ঘোষণা দিয়েছেন, তারা ‘যেকোনো মূল্যে’ এরশাদের লাশ রংপুরে রেখে দেবেন।

এরশাদকে রংপুরেই দাফন করতে হবে। এরশাদকে সমাহিত করতে পল্লীনিবাসের লিচু বাগানে প্রস্তুত করা হয়েছে কবর।

এরশাদের কবরের স্থান নির্ধারণ নিয়ে রশি টানাটানিকে ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করে বলেন, মানুষ থেকে আলাদা করার এরশাদকে একটি জনবিচ্ছিন্ন এলাকায় কবর দেয়ার চক্রান্ত চলছে তা প্রতিহত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এরশাদ জেলে থাকা অবস্থাতেও রংপুরের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে রংপুর সদর আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা গিনেস রেকর্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

তবে দলের পূর্বসিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রংপুর ঈদগাহ মাঠে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চতুর্থ জানাজা শেষে তার কফিন হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় নিয়ে আসা হবে। বাদ আসর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কবরস্থানের তাকে সমাহিত করা হবে।

গত ২৬ জুন সকালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অসুস্থবোধ করলে তাকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। বার্ধক্যজনিত রোগসহ নানা রোগে ভুগছিলেন এরশাদ।

এএস