দ্বীপ জেলা ভোলার লালমোহনের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এখন মানুষের জীবন বাচাঁনোর পরিবর্তে জীবন নেওয়ার মহা উৎসবে মেতে উঠেছে।
প্রতিনিয়তই এ উপজেলার চিকিৎসা সেবা নিতে আসা মানুষের জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দিচ্ছে অনেকটাই খেয়াল খুশির ছলে । নিরহ মানুষগুলো হাড়াচ্ছে তার পরম আত্মীয়।
গত ৩০শে জুলাই প্রবাসি ছেলের বধুকে প্রসব ব্যাথায় কাতরানো অবস্থায় তার স্বশুর স্বাশুরি সকার ১১.০০ সময় নিয়ে আসেন লালমোহান উপজেলা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে। এসে দেখেন তারা কর্তব্যরত ডাক্তার নেই। টাকার নেশায় ব্যাস্ত তিনি তার নিজস্ব চেম্বারে ।
বাধ্য হয়ে ডাক্তার ডেইজি হালদার এর চেম্বারে সাক্ষাৎ করলে ডাক্তার রোগীকে দেখার পর মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে ভর্তি হতে বলে।
হাসপাতালে ভর্তির পর তার সহকারি ৪ জন সিস্টার খাদিজা, রাশিদা , বুলি ও দুলালনি কে রোগীর দেখাশুনার করতে বলে ।
ডাক্তার রোগীর পরিবারকে বলেছেন যে তার কোন সমস্য নেই রোগীর চিকিৎসা এখানেই হবে বলে চলে যান । সিস্টাররা রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৩.০০ সময় রোগীর অবস্থা ক্রমশই খারাপ হতে থাকে। ডাক্তার ও সিস্টাররা বিকেল ৬.০০ সময় রোগীকে দেখতে আসে ।
তারা সেখানে অনেক বিলম্ব করে তার চিকিৎসা করতে থাকে। ডাক্তার বলেছেন রোগীর জ্বরআয়ুর মুখ খুলে নাই , মুখ খোলার জন্য ইনজেকশন দিচ্ছি । এ সময় রোগীর প্রচন্ড প্রসব বেদনা উঠে।
ডাক্তার ডেইজি হালদার রোগীকে তার সহকারি ৪ জন সিস্টারের কাছে রেখে চলে যান। রাত ১০.৩০ মিনিট এর সময় সিস্টাররা রোগীর প্রসব বেদনা প্রচন্ড দেখে তারা গাইনি বিভাগে নিয়ে যায়। সেখানে ডাক্তার ছিল না।
সিস্টাররা রোগীকে পর্যবেক্ষন করে এ সময় রোগীর জ্বরআয়ু কেচি দিয়ে কেটে দেয়। রোগী রুনা বেগম সিস্টানদের বলেন আপনারা কি করছেন । রোগীর তখনও জ্ঞান ছিল।
জ্বরায়ু কাটার পর রোগীর বাচ্চা ডেলিবারি না হওয়ায় রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তারা রোগীর এ অবস্থা দেখে রোগীকে রেখে রাতের খাবারের কথা বলে পালিয়ে যায়।
রাত ১২.৩০ মিনিট রোগীর এই শোচনিয় অবস্থা দেখে রোগীর অভিভাবকরা চিৎকার করে উঠলে এক জন সিস্টার এসে রোগীকে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে। রোগীকে দ্রুত সিজার করতে হবে বলে সে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
রোগীর আত্মীয়- স্বজন কোন এ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে মাইক্রো ভাড়া করে রাত ১.৫০ মিনিটে ভোলা মাতৃ নিলয় নাসিং হোমে আসে। সেখানে ডাক্তার পারভিন আক্তার রোগীকে দেখে বলেন যে, রোগীর জ্বরায়ু ফেটে গেছে তার দ্রুত সিজার করতে হবে কিন্তু ডাঃ পারভিন আক্তার রোগীর সিজার করতে এবং চিকিৎসা করতে রাজি হন নি। তিনি রোগী ও রোগীর ভভিবাকদের দুর দুর করে রাতে প্রচন্ড বর্ষার মধ্যে তারিয়ে দেন।
এসময় তারা কোন উপায় না পেয়ে রোগীকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পরে সকাল ৮.৩০ মিনিটে রোগীকে প্রচন্ড ঝড়ের মধ্যে স্পি্রুডবোর্ড এ করে বরিশাল নিয়ে যাওয়া হয়।
বরিশালে শুক্রবার সরকারি হাসপাতাল বন্ধ থাকা এবং সকল ডাক্তার বাহিরে থাকার কারনে রোগীকে তার পরিবার একটি প্রাইভেট ক্লিনিক এ ভর্তি করেন।
ডাক্তার রোগীকে পর্যবেক্ষন করে দ্রæত পরিক্ষা নিরিক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠান এবং দ্রুত সিরাজ করতে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান । সিজার করার পর তার একটি মৃত সন্তান পরিবারের লোকজনকে উপহার দেন।
এ ভাবেই চিকিৎসা সেবার নামে প্রতিদিন কারো না কারো মায়ের কোল খালি করেন লালমোহান মা ও শিশু কল্যন এই মহান প্রতিষ্ঠানটি।
এমতাবস্তায় চলতে থাকলে ঘওে ধুকে ধুকে মরলেও আর চিকিৎসা সেবা নিতে যাবেন না কোন মানুষ ।
তাই এখনই এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্বে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে খালি হয়ে যাবে আরো অনেক মায়ের বুক । সন্তান হাড়াবে তার জন্মদ্রাতী মা কে ।
এসএইচ





