গাজীপুরের পূবাইলের কলেজ গেট এলাকায় একটি টায়ার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একজন শিক্ষিকাসহ ৬ জন নিহত হয়েছেন। দগ্ধ হয়েছেন তিনজন।
নিহতরা হলেন, স্থানীয় বাড়ইবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিক সিদ্দিকা জেবুন নেছা, ওই কারখানার দারোয়ান স্থানীয় বসুগাও এলাকার সেলিম মোল্লা (৪৫), মাদারীপুরের বাঘরিয়া এলাকার কাউসার হোসেন (৪০)। বাকি দুইজনের পরিচয় পাওয়া যায় নি।
শনিবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জয়দেবপুর স্টেশনের অফিসার হাসিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসী জানায়, বিকেল ৪টার দিকে হঠাৎ বিকটশব্দে স্মার্ট মেটাল অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে পরপর দুটি বয়লার বিস্ফোরণ ঘটে। এ বিস্ফোরণের পরক্ষণেই কারখানার একটি ট্যাংক লরির বিস্ফোরণ ঘটে।

বিস্ফোরণে টিনসেটের ওই কারখানা ধসে পড়ে। এবং আগুন ধরে যায়। এ সময় কারখানার পাশ্ববর্তী জয়দেবপুর-পূবাইল সড়ক দিয়ে যাবার সময় অটোরিকশা যাত্রী স্কুল শিক্ষিকা অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। চালক স্বাধীন আহত হয়।
এদিকে ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলে গিয়ে জয়দেবপুর ও টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ সময় ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা নিহত আরো ৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা কারখানার অগ্নিদগ্ধ সুপারভাইজার আব্দুল কাদের (৫৫) এবং সুপারভাইজার কামাল হোসেনকে (৪৯) গাজীপুরের শহীদ সতাজ উদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং রিকশাচালক স্বাধীনকে টঙ্গী হাসপাতালে পাঠায়।
শহীদ তাজ উদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার আব্দুল্লা আল মামুন জানান, অগ্নিদগ্ধদের শরীরের শতকরা ৯০ভাগ পুড়ে গেছে। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হতাহতের খবর পেয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম আলম শহীদ তাজ উদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট মো. রাহেনুল ইসলামকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, নিহতদের দাফনের জন্য প্রত্যেক পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে।
এমএম





