ঝিনাইদহের মহেশপুরে জঙ্গি আস্তানায় আত্মঘাতী একজনের নাম তুহিন বলে জানিয়েছেন মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ কবীর। উপজেলার বজ্রাপুর হঠাৎপাড়া গ্রামের ওই বাড়িটি রোববার সকাল ৬টার দিকে ঘিরে রাখার পর আত্মঘাতী হামলায় ২ জঙ্গি নিহত হয়। এর মধ্যে এজনের নাম জানা গেছে। ওসি আহমেদ কবীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘অল্পের জন্য বেঁচে গেছি ভাই। ১০ মিনিট আমার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় জঙ্গি তুহিনের। আমি তাকে লাথি মারলে সে পড়ে যায়। এরপর আমি একপাশে লাফ মারি। তখনই সুইসাইডাল বোম্ব ব্লাস্ট হয়ে সে মারা যায়।’
আত্মঘাতী হামলায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এডিশনাল এসপি নাজমুল হাসান, এসআই মুজিবুর রহমান ও ডিএসবির এসআই মহসীন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের যশোর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওসি জানান, জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বাড়িটি ঘিরে রাখার পর জঙ্গিরা পর পর চারটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে দুই জঙ্গি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে তুহিন গতরাতে এখানে আসে। অপরজনের পরিচয় জানা যায়নি। এ ঘটনায় একতলা ওই বাড়ির মালিক জহুরুল ইসলাম, তার ছেলে জসিম ও ভাড়াটিয়া আলমসহ চারজনকে আটক করা হয়।
নিরাপত্তার স্বার্থে সাংবাদিকদের নিরাপদ দূরত্বে অর্থাৎ ২০০ গজ দূরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া আশপাশের বাড়িতে বসবাসকারীদেরও নিরাপদ দূরত্বে থাকতে বলা হয়েছে। জঙ্গি আস্তানার আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
এর আগে ২২ এপ্রিল ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামের ঠনঠনেপাড়ায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা। অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন সাউথ প’ বা দক্ষিণের থাবা। প্রায় ৪ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের অভিযানে ওই জঙ্গি আস্তানা থেকে বিস্ফোরক তৈরি রাসায়নিক ভর্তি ২০টি ড্রাম, একটি সেভেন পয়েন্ট সিক্স বোরের পিস্তল, একটা ম্যাগাজিন, সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পাঁচটি বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়।
অপারেশন ‘সাউথ প’ সমাপ্ত ঘোষণার পর এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ জানান, বাড়িটিকে জঙ্গিদের বোমা তৈরির কারখানা বলা যেতে পারে। এ বাড়িতে তিন-চার জন জঙ্গি ছিল। তারা আগেই পালিয়ে গেছে। বাড়িটিতে জঙ্গি সংগঠনগুলোর বিভাগীয় পর্যায়ের লোকজন আসা যাওয়া করত বলেও জানান তিনি।





