খুলনার পাইকগাছায় কমিটি গঠন নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে সাতজন আহত হয়েছেন। বিক্ষুদ্ধ কর্মীদের হাতে বর্তমান কমিটির আহবায়ক গাজী মোহাম্মদ আলী দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকেন। পদবঞ্চিতদের ক্ষোভের মুখে পদ থেকে সরে দাঁড়ালে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
রবিবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জনান, জেলার পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা সকালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ উপলক্ষে রবিবার সকাল ১০টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সোহরাব আলী সানা ও বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ মো. নুরুল হক গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে সাতজন আহত হন। গুরুতর আহত ছয়জনকে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন- আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র শেখ কামরুল হাসান (টিপু), উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি সাংবাদিক তৃপ্তি রঞ্জন সেন, সাবেক পৌর কাউন্সিলর হেমেশ চন্দ্র মন্ডল, রেজাউল করিম, হরিঢালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বেনজীর আহমদ বাচ্চু, সোলাদানা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মাহবুবুজ্জামান, হরিঢালী ইউনিয়নের যুবলীগ সভাপতি মিজানুর রহমান।
এদিকে, আওয়ামী লীগের থানা আহবায়ক গাজী মোহাম্মদ আলী পদবঞ্চিতদের হাতে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী অবরুদ্ধ থাকেন। তাকে এ সময় লাঞ্ছিতও করা হয়। একপর্যায়ে পদবঞ্চিতদের চাপের মুখে গাজী মোহাম্মাদ আলী উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক পদ থেকে লিখিতভাবে স্থানীয় সংসদ সদ্যসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মো. নুরুল হকের হস্তক্ষেপে তিনি মুক্ত হন। এ সময় পদবঞ্চিতরা ‘... দের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে’- এমন স্লোগান দিয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।
সংঘর্ষের কারণে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা পণ্ড হয়ে যায়। বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ মো. নুরুল হক এ প্রসঙ্গে জানান, বিতর্কিত উপজেলা আহবায়ক কমিটির কারণে নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। ফলে বঞ্চিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বাধে।
সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সোহরাব আলী সানা জানান, আমার দৃষ্টিতে পাইকগাছায় কোনো গ্রুপিং নেই। তবে যা ঘটেছে তা খুবই দুঃখজনক।
বর্তমান আহবায়ক গাজী মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে পাইকগাছা থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) শিকদার আক্কাস আলী জানান, বর্তমান এমপি নূরুল হক ও সাবেক এমপি সোহরাব হোসেন সানার গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে সাতজন আহত হন।
তিনি আরও জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল কিন্তু কোনো অ্যাকশনে যায়নি। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও প্রস্তুত রয়েছে।
কেএইচ





