চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে আজ বুধবার ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর জেরে ছাত্রদের আজ রাত আটটার মধ্যে এবং ছাত্রীদের আগামীকাল সকাল ১০টার মধ্যে ছাত্রাবাস ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। গঠন করা হয়েছে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি।

এদিকে, ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যকার সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কলেজ ক্যাম্পাসে কলেজ কর্তৃপক্ষের আয়োজনে বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় বহিরাগত ছাত্রলীগ-যুবলীগ ক্যাডাররা প্রবেশ করে হামলা চালালে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।

পুলিশের সামনে ছাত্রলীগ ক্যাডার টিনুর নেতৃত্বে একদল ক্যাডার অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এসময় ছাত্রশিবিরের কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বুধবার বেলা সাড়ে ১২ টায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অর্ধশতাধিক ছাত্রকে আটক করেছে।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, সকাল ১০ টা থেকে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষের আয়োজনে ক্যাম্পাসে বিজয় দিবসের আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। বেলা ১২ টার দিকে স্থানীয় যুবলীগ ক্যাডার টিনুর নেতৃত্বে একদল যুবকযুবলীগ-ছাত্রলীগের ব্যানারে কলেজের প্রধান গেটে অবস্থান নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করে। এসময় তারা উস্কানিমূলক শ্লোগান দিতে থাকে।

বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তারা গেইট টপকিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে ছাত্র শিবিরের সাথে সংঘর্ষ লেগে যায়। খবর পেয়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ এসে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়। বেলা ৪টা নাগাদ পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এসময় পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগ-যুবলীগের শতাধিক ক্যাডার হলে প্রবেশ করে সাধারণ ছাত্রদের উপর হামলা চালায়। পরে পুলিশ হল তল্লাশী করে অর্ধ শতাধিক ছাত্রকে আটক করে।

চকবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আজিজ বলেন, আটককৃতদের যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। নিরাপরাধীদের ছেড়ে দেয়া হবে।

অপর এক সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে কলেজের সামনের সড়ক অবরোধ করে রাখে ছাত্রলীগ। কলেজের ছাত্রাবাস স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার দাবিতে ছাত্রলীগ এর আগে অধ্যক্ষকে ঘণ্টা তিনেক অবরুদ্ধ করে রাখে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল জলিল মণ্ডল বলেন, ‘ছাত্রলীগ সমাবেশ করার সময় পেছন থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ছাত্রশিবির আচমকা এভাবে হামলা চালায়। এটা তাদের অভ্যাস।’

চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম বলেন, ‘চট্টগ্রাম ও মহসীন কলেজের ছাত্রাবাসে শিবির ও জঙ্গিরা থাকে। সেখানে কোনো সাধারণ ছাত্র থাকতে পারে না। তাই ওই দুটি কলেজের সব ছাত্রাবাস স্থায়ীভাবে বন্ধ না করা পর্যন্ত ছাত্রলীগ সড়ক অবরোধ চালিয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ শিবির ক্যাডারদের ছাত্র মনে করেন। কোনো বিষয়ে দাবি জানালে তিনি আমাদের সন্ত্রাসী বলে মন্তব্য করেন। তাঁর কারণে ছাত্রাবাসগুলো বন্ধ করা যাচ্ছে না।’

চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ জেসমিন আক্তার বলেন, ‘ছাত্রাবাস বন্ধ করার এখতিয়ার আমার নেই। কলেজের একাডেমিক কাউন্সিল চাইলে বন্ধ করা যেতে পারে। প্রশাসন চাইলেও সেটা সম্ভব।’

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘ছাত্রাবাস বন্ধ করা নিয়ে ছাত্রলীগ ও কলেজ কর্তৃপক্ষ বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে কলেজ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। আমরা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় দেখব। ছাত্রাবাস বন্ধ করার আমরা কেউ না।’

কেবি