চট্টগ্রামে পাচঁ তারকা হোটেল 'রেডিসন বে ভিউ'র নির্মাণ কাজ প্রায় শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামে এটিই প্রথম পাঁচ তারকা হোটেল। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের সমাপনি সৌন্দর্যবর্ধনের যাবতীয় কাজ।

আগামী জানুয়ারি মাসের যে কোনো দিন চট্টগ্রাম রেডিসন হোটেল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বাংলাদেশ সেনাকল্যাণ সংস্থার অর্থায়নে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই হোটেলের নির্মাণ কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগরীর লালখান বাজার ও কাজীর দেউড়ি এলাকার মাঝামাঝি এবং চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের উল্টোদিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪ দশমিক ১৮ একর জমির ওপর এই পাঁচ তারকা মানের হোটেলটি নির্মাণ করেছে সেনা হোটেল ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড।

ভিস্তারা আর্কিটেক্টসের স্থপতি মুস্তাসিম পলাশ খালিদের নকশায় এবং প্রকৌশলী মো. রফিকের স্ট্রাকচারাল ডিজাইনে ২২ তলা বিশিষ্ট চট্টগ্রাম রেডিসন হোটেলটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এই হোটেলে রয়েছে দুটি বেইজমেন্টসহ ২২টি ফ্লোর।প্রথম পাঁচ তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লোরের আয়তন ৮৬ হাজার বর্গফুট। এরপরের ফ্লোরগুলো প্রতিটি ২০ হাজার বর্গফুটের। দেশি-বিদেশি অতিথিদের রাত্রিযাপনের জন্য এখানে রয়েছে ২৪৯টি কক্ষ। এর বাইরে একটি প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট ও একটি রয়েল স্যুট রয়েছে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর মতো অতিথিদের থাকার ব্যবস্থা।

হোটেলে ষষ্ঠ তলা পর্যন্ত বিশেষ র‌্যাম্পের মাধ্যমে ঘুরে ঘুরে উঠতে পারবে গাড়ি। ষষ্ঠ তলাতেই থাকছে সার্কুলার কার পার্কিং ও সুইমিং পুল। পাঁচ তারকা এই হোটেলে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যকে ধারন করে মেজবান হল নামে পরিচিত দুটি ব্যাংকুইট হল করা হয়েছে। প্রতিটিতে একসঙ্গে মেজবানে অংশ নিতে পারবেন এক হাজার অতিথি। হোটেলের ভেতরে বাইরে মিলে এক হাজার অতিথির গাড়ি পার্কিংয়ের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সাতটি লিফট, দুটি লং টেনিস কোর্ট, একটি ডিসকো থিক, মিনি শপিং মার্ট, ব্যাংকসহ পাঁচ তারকা হোটেলের যাবতীয় সব সুযোগ-সুবিধা এই হোটেলে পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান থাকবে।

২০১১ সালের ১৭ জুলাই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়।মাত্র মাত্র তিন বছরের মধ্যেই এই বিশাল প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়। ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই এটি উদ্বোধনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করা হবে। জানুয়ারি মাসের যে কোনো দিন হোটেলটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে পারে।

ইআর