প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গুপ্ত হত্যাকারীরা আজ পরিবারের ওপর হাত দিতে শুরু করেছে। তারা কি ভুলে যায় তাদেরও পরিবার আছে? একবার একদিকে যদি আঘাত আসে অন্যদিকেওতো আঘাত যেতে পারে। আজকে যদি তারা এভাবে পরিবারের ওপর হাত দিতে শুরু করে তাহলে কিন্তু কারো হাতই থেমে থাকবে না। তারা যদি মনে করে যে গুপ্ত হত্যা করে দেশ উল্টে দেবে, তারা তা পারবে না। তাদের বিচার এই বাংলার মাটিতে হবেই হবে। তাদের প্রভু যারাই হোক তাদেরকেও আমরা রেহাই দেবো না। এ সব গুপ্তহত্যা করে তারা দেশের মানুষের যে ক্ষতি করছে, একটা পরিবারের যে ক্ষতি করছে আমরা এটার হিসাব পাই পাই করে নেবো।

সংসদে প্রশ্নোত্তরে আজ ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পীর এক সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। সকলে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। অবশ্য মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিতি প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই যে গুপ্ত হত্যা আপনারা লক্ষ্য করেছেন- ২০১৩ সাল থেকে ২০১৪ সালে নির্বাচন ঠেকানোর পরিকল্পনায় প্রকাশ্য দিবালোকে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যার একটা কর্মযজ্ঞ করা হয়েছিল। বহু মানুষকে এভাবে পুড়িয়ে প্রকাশ্যে হতা করা হয়েছিল। এই মানুষ পুড়িয়ে মারাটা জনগণ গ্রহণ করেনি। তারা এর প্রতিরোধ শুরু করে। জনগনের মধ্যে থেকে প্রতিরোধ আসে। ২০১৫ সালে জানুযায়ী থেকে মার্চ পর্যন্ত মানুষ পোড়ানোর হত্যাযজ্ঞ চলতে থাকে। আন্দোলনের নাম করে এই ধরণের ঘটনা ঘটানো হয়। এটা আমরা প্রতিবাদ করি, দেশবাসী প্রতিরোধ করে। যখন গণরোষ সৃষ্টি হয় তখন তারা এ থেকে বিরত হয়। কিন্ত এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি এখন গুপ্তহত্যার পথ বেছে নেয়া হচ্ছে। মসজিদ মন্দির গীর্জা প্যাগোডার পুরোহিত বা ইমাম- তাদেরকে হত্যা করা হচ্ছে। সেই সাথে শিক্ষক হত্যা, এমনকি যেটা এর আগে আমরা কখনো দেখিনি পুলিশ অফিসার যিনি এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করে যাচ্ছিলেন তার স্ত্রীকে কিভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হলো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশের কাজইতো আইন শৃংখলা রক্ষা করা। তাদের কাজ হচ্ছে অপরাধীদের ধরা। বাংলাদেশে নানা ধারণের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড যারা ঘটাতে চেয়েছে এই পুলিশ অফিসার তাদেরকে গ্রেফতার করেছে। বোমা মারার সরঞ্জাম থেকে শুরু করে বহু কিছু সে উদ্ধার করেছে। এরা তার পরিবারের ওপর হাত দিয়েছে। একটা কথা আমি এখানে বলতে চাই, যে সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে এই ধরণের ঘটনা ঘটাচ্ছে এবং আপনারা দেখবেন তাদের হত্যা করার প্যাটার্নটা একই রকম। তারা একই জায়গায় কোপ দেয়, একই জায়গায় গুলি করে একই কায়দায় এই ঘটনাগুলো ঘটানো হচ্ছে। ইতোমধ্যেই এ ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। আমি অনেকগুলো আসামি এর মধ্যে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। এখানে যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তারা গ্রেফতার হবে সন্দেহ নেই।

শেখ হসিনা বলেন, আজকে তারা পরিবারের ওপর হাত দিতে শুরু করেছে। তারা কি ভুলে যায় তাদেরও পরিবার আছে? তাদেরও বাবা মা আছে, তাদেরও ভাইবোন আছে, তাদেরও স্ত্রী আছে? একবার একদিকে যদি আঘাত আসে অন্যদিকেওতো আঘাত যেতে পারে। এটা কি তারা ভুলে যাচ্ছে। যারা এই ধরণের সন্ত্রাস ও গুপ্তহত্যার সাথে জড়িত আমি তাদের পরিবারকেও বলবো, তাদের বাবা মাকেও বলবো, তাদের স্ত্রী ভাই বোনদেরকেও বলবো এর থেকে তাদের পরিবারের সদস্যরা যেন তাকে বিরত থাকতে বলে। কিন্তু আজকে যদি তারা এভাবে পরিবারদের ওপর হাত দিতে শুরু করে তাহলে কিন্তু কারো হাতই থেমে থাকবে না। জনগণকে থামিয়ে রাখতে পারবে না। আর তারা যদি মরে করে যে গুপ্ত হত্যা করে দেশ উল্টে দেবে তারা তা পারবে না। কিন্ত হত্যাকারী ঠিকই ধরা পড়বে, হত্যাকারীর ঠিকই সাজা হবে। সর্বোচ্চ সাজা এই হত্যাকারিরা ভোগ করবে। এটাও আমি তাদের বলতে চাই ১৯৭১ সালে যারা যুদ্ধারপরাধ করেছিল, এদেশে গণহত্যা চালিয়েছিল, মেয়েদের রেপ করেছিল, লুটপাট করেছিল, অগ্নিসংযোগ করেছিল, আমাদের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল আমরা কিন্তু তাদের বিচার করতে সক্ষম হয়েছি। কারণ খুনের মামলা তামাদি হয় না কখনো। তাদের কিন্তু বিচার হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছিল যাদের ইনডেমনিটি দেয়া হয়েছিল। যাদের কোনোদিন বিচার করা হবে না বলে আইন জারি করা হয়েছিল। সেই খুনিদেরও আমরা বিচার করেছি এবং বিচারের রায়ও কার্যকর হয়েছে। কাজেই আজকে যারা গুপ্তহত্যায় লিপ্ত তারা যদি মনে করে যে গুপ্তহত্যা করে তারা পার পেয়ে যাবে তারা পার পাবে না। তাদের বিচার এই বাংলার মাটিতে হবেই হবে। তাদের প্রভু যারাই হোক তাদেরকেও আমরা রেহাই দেবো না। এটা হলো বাস্তব কথা। আর এ সব গুপ্তহত্যা করে তারা দেশের মানুষের যে ক্ষতি করছে। একটা পরিবারের ক্ষতি করছে আমরা এটার হিসাব পাই পাই করে নেবো।