প্রশ্নপত্র ফাঁসের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ‘কঠোর’ সাজা প্রদানের সংশ্লিষ্ট ধারা ‘শিক্ষা আইন-২০১৩’র খসড়ায় সংযোজন করতে যাচ্ছে সরকার। প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের আন্দোলনের ফলে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।

গত ৮ এপ্রিল প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা স্থগিত করে শিক্ষা বোর্ড। পরবর্তীতে বিভিন্ন শিক্ষাবোর্ডে এইচএসসি’র অন্যান্য বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ওঠে।

এরপর থেকে শিক্ষাবিদরা বিশেষ করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাফর ইকবাল প্রশ্নপত্র ফাঁসের জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও কঠোর আইন প্রণয়নের দাবিতে জাতীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।

এরপর গত ১১ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নের বিষয়ে মতামত, পরামর্শ ও সুপারিশ গ্রহণের জন্য দেশের খ্যাতিমান অর্ধ শতাধিক প্রবীণ শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

বৈঠকে পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আইন করার সুপারিশ করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিক্ষকসহ বিশিষ্ট নাগরিকরা।

এরপর শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট নাগরিকদের পরামর্শে পাবলিক পরীক্ষাসহ সব ধরনের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ‘কঠোর’ সাজা প্রদানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ধারা ‘শিক্ষা আইন-২০১৩’র খসড়ায় সংযোজন করতে উদ্যোগ গ্রহণ করে শিক্ষামন্ত্রণালয়।

এর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০ এবং সংশোধনী ১৯৯২-এর চার নম্বর ধারায় অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো। এই ধারা মতে, প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রকাশ বা বিতরণের সঙ্গে জড়িত থাকার শাস্তি ন্যূনতম ৩ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ড প্রদান। কিন্তু এ পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে হাতে গোনা কয়েকটি ছাড়া অধিকাংশ ঘটনার বিরুদ্ধে শাস্তির নজির নেই।

ঢাকা, ২১ জুন(টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস