শাহ নেওয়াজ রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় গ্রেফতার নিহতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
বুধবার (১৭ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে বরগুনার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিন্নিকে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।
পরে শুনানি শেষে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী।
গতকাল (মঙ্গলবার) দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৯টার দিকে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এর আগে সকাল পৌনে ১০টার দিকে মিন্নিকে তার বাবার বাড়ি মাইঠা গ্রাম থেকে পুলিশ লাইনে আনার কথা জানিয়েছিলেন বরগুনার পুলিশ সুপার। মামলার প্রধান সাক্ষি হিসেবে তার জবানবন্দি নেওয়া হয় তখন।
বরগুনার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মারুফ হোসেন মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় পুলিশ তাকে এ মামলায় গ্রেফতার করা হল।
তাকে রিমান্ডে নেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নে পুলিশ সুপার তখন বলেছিলেন, মামলার সঠিক তদন্তের স্বার্থে তার বিরুদ্ধে রিমান্ড চাওয়া হবে।
মারুফ হোসেন বলেন, রিফাত শরীফ হত্যা মামলার ১ নম্বর সাক্ষী ও প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন মিন্নি। তার বক্তব্য রেকর্ড ও তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঙ্গলবার বরগুনা পুলিশলাইনে আনা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে। এ কারণে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
গত ২৫ জুন জেলা শহরের কলেজ রোডে রিফাত শরিফকে (২৩) স্ত্রীর সামনে কুপিয়ে জখম করে একদল যুবক। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
হামলার ঘটনার একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে শুরু হয় আলোচনা। সেখানে দেখা যায়, দুই যুবক রামদা হাতে রিফাতকে একের পর এক আঘাত করছে। তার স্ত্রী মিন্নি তাকে বাঁচানোর জন্য হামলাকারীদের ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।
নিহত রিফাত শরীফ নিহত রিফাত শরীফ পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মিন্নি হামলাকারী সবাইকে চিনতে না পারার কথা জানালেও নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী ও তার ভাই রিশান ফরাজীর নাম বলেন।
২৭ জুন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বরগুনা থানায় ১২ জনের নামে এবং ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ২ জুলাই ভোরে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।
পুলিশ সুপারের বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) জানানো হয়, এ পর্যন্ত এ মামলায় এজাহারনামীয় সাতজন ও সন্দিগ্ধ সাতজনসহ ১৪ জনকে (মিন্নিসহ ১৫ জন) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ১০ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, ৩ জন রিমান্ডে আছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন (বুধবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনের সড়কে স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে গুরুতর আহত করে একদল যুবক। রিফাতের স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। একাধারে রিফাতকে কুপিয়ে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে হামলাকারীরা।
গুরুতর আহত রিফাতকে এদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে এনিয়ে দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
এমবি





