ঝিনাইদহ সদরে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা দুটি বাড়ি থেকে নব্য জেএমবির দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া ৬টি বোমা, ১৫টি ডাইনামাইট স্টিক হাই এক্সক্লুসিভ ও ৩০টি ইলেকট্রিক সার্কিট পাওয়া গেছে। ঝিনাইদহ র‌্যাব ৬-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মনির আহমেদ মঙ্গলবার দুপুরে অভিযানের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে এ সব তথ্য জানান। এখনো দু’টি বাড়ির পাশের ৫টি স্পটের ৪ নম্বর স্পটে অভিযান চলছে।

জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে সোমবার গভীর রাত থেকে দুটি বাড়ি ঘিরে রাখে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও পুলিশ। এরপর খুলনা থেকে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট আসলে মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টায় অভিযান শুরু হয়। প্রথমেই আস্তানার পাশের বাঁশ বাগান থেকে দুটি সুইসাইডাল ভেস্ট একটিভ অবস্থায় পাওয়া যায়।

র‌্যাব-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মনির আহমেদ জানান, সদর উপজেলার চুয়াডাঙ্গা গ্রামের দুটি বাড়ি সোমবার গভীর রাত থেকে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা হয়। একটি বাড়ি মহেশপুরের বজরাপুরে নিহত জঙ্গি তুহিনের বড় ভাই সেলিমের এবং অপর বাড়িটি তার চাচাতো ভাই প্রান্তের।

এর আগে র‌্যাবের এএসপি আবুল কালাম আযাদ সাংবাদিকদের জানান, কয়েকদিন আগে মহেশপুরের তুহিন নামের এক জঙ্গি নিহত হয়। তার স্বজন ও সহযোগীদের অনুসরণ করছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের কাছে তুহিনের রেখে যাওয়া কিছু বিস্ফোরক থাকতে পারে। এ সন্দেহ থেকে তুহিনের ভাইয়ের বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়। তবে ভেতরে জঙ্গি আছে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত নন তিনি।

জেলার মহেশপুরের বজরাপুর গ্রামে ৭ মে সকাল থেকে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়ি ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে সিটিটিসি ইউনিট বাড়িতে অভিযান চালায়। ওই জঙ্গি আস্তানায় আত্মঘাতী হামলায় তুহিনসহ দুই জঙ্গি নিহত হন। এ ছাড়া আহত হন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের এডিসি নাজমুল ইসলাম, এসআই মুজিরুর রহমান ও ডিএসবির এসআই মহসীন। এ সময় একতলা ওই বাড়ির মালিক জহুরুল ইসলাম, তার ছেলে জসিম ও ভাড়াটিয়া আলমসহ চারজনকে আটক করা হয়।

একই দিন সদর উপজেলার নেবুতলায় মৃত শরাফত হোসেনের বাড়িতে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। এর আগেই শরাফত হোসেনের দুই ছেলে শামীম (২২), হাসান (৩৫) ও তাদের এক বন্ধুকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৮ মে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৮টি বোমা, ১টি নাইন এমএম পিস্তল ও ৬টি গ্রেনেড পাওয়া যায়।

এর আগে ২২ এপ্রিল ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামের ঠনঠনেপাড়ায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা। অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন সাউথ প’বা দক্ষিণের থাবা। প্রায় ৪ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের অভিযানে ওই জঙ্গি আস্তানা থেকে বিস্ফোরক তৈরি রাসায়নিক ভর্তি ২০টি ড্রাম, একটি সেভেন পয়েন্ট সিক্স বোরের পিস্তল, একটা ম্যাগাজিন, সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পাঁচটি বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়।

অপারেশন ‘সাউথ প’সমাপ্ত ঘোষণার পর এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ জানান, বাড়িটিকে জঙ্গিদের বোমা তৈরির কারখানা বলা যেতে পারে। এ বাড়িতে তিন-চার জন জঙ্গি ছিল। তারা আগেই পালিয়ে গেছে। বাড়িটিতে জঙ্গি সংগঠনগুলোর বিভাগীয় পর্যায়ের লোকজন আসা যাওয়া করত বলেও জানান তিনি।

এমই