‘সারা শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন। ডান পায়ে গুলির ক্ষত। রক্তে ভেজা পরনের লুঙ্গি। শরীরের উপরের অংশে কোনো কাপড় নেই।’

বৃহস্পতিবার লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে পড়ে থাকা হতভাগ্য এক ব্যক্তির লাশ দেখে এভাবেই বর্ণনা করছিলেন চান্দের আলী (৬৫)। হত্যার পর বুধবার গভীর রাতে লাশটি আমঝোল সীমান্ত সংলগ্ন কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ফেলে রাখে বিএসএফ সদস্যরা। বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত লাশের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) আহ্বানে সাড়া দিয়ে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় পতাকা বৈঠকে বসে বিএসএফ। লাশ শনাক্তে বাংলাদেশের স্থানীয় ৪ বাসিন্দাকে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদেরই একজন বৃদ্ধ চান্দের আলী।

কথা হয় কৃষক শামসুল আলমের (৫২) সঙ্গেও। ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ৫শ’ গজ দূরে তার বাড়ি। বিএসএফের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনিও লাশ শনাক্তে ভারতে গিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, “বুধবার গভীর রাতে গুলির শব্দে আমার ঘুম ভাঙে। পরে মারধরের শব্দ পাই। এ সময় কেউ একজন ‘ওরে বাবারে, ওরে মারে’ বলে চিৎকার করছিল।”

হাতীবান্ধার দৈখাওয়া বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আবদুল কাদের বলেন, পতাকা বৈঠকে ভারতের ১০০ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কোম্পানি কমান্ডার ইন্সপেক্টর মুখেশ কুমার লাশ শনাক্তের আহ্বান জানালে আমরা স্থানীয় চার ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলে পাঠাই। কেউ লাশটি চিনতে পারেনি। পরে বিএসএফ লাশটি নিয়ে যায়।

বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল গোলাম মোরশেদ জানিয়েছেন, স্থানীয়রা লাশটি শনাক্ত করতে পারেনি। তাই বিএসএফ নিয়ে গেছে। সকালে লাশ ঘিরে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়। লাশটি কেউ চিনতে না পারায় তার দেশ পরিচয় নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

জানতে চাইলে উপজেলার গোতামারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাশেম সাবু মিয়া বলেন, বিএসএফ ওই ব্যক্তিকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে।

লাশটি স্থানীয়রা চিনতে না পারলেও বাংলাদেশের কোনো এক জেলার বাসিন্দা। তা না হলে বিএসএফ খুন করে লাশ বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ফেলে রাখবে কেন। লাশটি যদি কোনো বাংলাদেশির না-ই হয় তাহলে হত্যার দায় অন্যের ঘাড়ে চাপাতে বিএসএফ কেন বাংলাদেশ ভূখণ্ডে লাশ ফেলে রেখে যায়। একই ভাষ্য সীমান্ত এলাকার মানুষেরও।

এমএনজে