বনানীতে দ্য রেইনট্রি হোটেলে আটকে রেখে দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনায় বনানী থানার ওসির কর্তব্যকাজে গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। ওই দুই অভিযোগকারীকে থানায় বসিয়ে রেখে হয়রানিও করা হয়েছে। মামলা গ্রহণে গড়িমসি করে আসামিদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। বনানীর ওসি ফরমান আলীর বিরুদ্ধে গুঠিত তদন্ত কমিটি সোমবার ডিএমপি কমিশনারের কাছে রিপোর্ট জমা দেবে।

তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে রয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপারেশন অ্যান্ড ক্রাইম) মিজানুর রহমান। ইতোমধ্যে কমিটি বনানী থানার ওসি ফরমান আলীকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এই কমিটিও ইতোমধ্যে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। এর মধ্যে একটি কমিটি মামলা নিতে গড়িমশি, প্রাথমিক তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ পেয়ে বনানী থানার ওসিকে কয়েকদফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। বনানী থানার ওসি অভিযোগের মৌখিক ও লিখিত জবাব দিয়েছে তদন্ত কমিটিকে।

তদন্ত কমিটির একটি সূত্র জানায়, ওসি ৪ মে ও ৫ মে অভিযোগকারীদের মামলা গ্রহণ করেননি। ৬ মে বিকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত অভিযোগকারী দুই ছাত্রীকে থানায় বসিয়ে রাখেন। রাত ৯টার পর গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আব্দুল আহাদ থানায় যান। কেন একজন অভিযোগকারীকে দুই দিন ধরে থানায় হয়রানি করা হচ্ছে- অতিরিক্ত উপ-কমিশনারের এমন প্রশ্নের মুখে ওসি মামলা গ্রহণ করতে বাধ্য হন। ওই দিন রাত ১০টায় ওসি থানায় মামলা গ্রহণ করেন বলে তদন্ত কমিটি তদন্তে প্রমাণ পেয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে অনেকের বক্তব্য নিয়েছি। বিষয়টির বিভিন্ন দিক আমরা খতিয়ে দেখছি। তদন্তে এ ঘটনায় কারো গাফিলতির প্রমাণ মিললে, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’

এই কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় ও যুগ্ম ‍কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন।

গত ২৮ মার্চ বনানীর ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী গণধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় ৬ মে বনানী থানায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের পুত্র সাফাত আহমেদ, ই-মেকার্স বাংলাদেশের মালিক নাঈম আশরাফ ওরফে আব্দুল হালিম, রেগনাম গ্রুপের পরিচালক সাদমান সাকিফ, সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলী ও সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেনকে আসামি করে একজন ছাত্রী মামলা করেন। ১১ মে প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৫ মে রাতে র‌্যাব এবং ডিবির পৃথক অভিযানে গ্রেফতার হয় গাড়ি চালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী রহমত আলী। গত বুধবার রাতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থেকে গ্রেফতার হয় ধর্ষণ মামলার দুই নম্বর আসামি নাঈম আশরাফ ওরফে আব্দুল হালিম।

এমই