কুষ্টিয়ায় বোরো মৌসুমে মোটা চাল সংগ্রহ অভিযানে গত এক মাসে মাত্র ১ হাজার ৩০০ টন চাল সংগ্রহ হয়েছে৷ গত ১ মে থেকে এ অভিযান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা ৪ জুন থেকে কুষ্টিয়া সদর ও মিরপুর উপজেলায় শুরু হয়৷
তবে সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, অচিরেই এই অভিযান সব উপজেলায় শুরু করা হবে৷
অন্যদিকেচালকল-মালিকরা জানান, আওয়ামী লীগের নেতাদের কমিশন ও বাইরে চালের দাম বেশি হওয়াসহ নানা কারণে চুক্তি করেও লোকসানের আশংকায়তারা চাল দিতে আগ্রহী নন৷
খাদ্যনিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, জেলায় এবার ১৯ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন বোরো মোটা চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে৷ এ জন্য ৪৭৬টি তালিকাভুক্ত কলের মধ্যে ৩৭৪টি চুক্তি করেছে৷
সবচেয়ে বেশি ১৪ হাজার ৫২৯ টন চাল সংগ্রহ হচ্ছে সদর উপজেলা থেকে৷উপজেলার২৫১টি কল এই চুক্তি করেছে৷ কুমারখালীতে ১৮টি ৯৪৭ টন, খোকসাতে ১০টি ৩৩৫ টন, ভেড়ামারায় দু'টি ৪৯৬ টন, মিরপুরে ৮৪টি ২হাজার ৯৩০ টন ও দৌলতপুরে সাতটি কল ৪০৭ টন চাল দেওয়ার জন্য চুক্তি করেছে৷
এ জন্য তারা মোট বরাদ্দের দুই ভাগ টাকা সরকারের কাছে জামানত দিয়েছেন৷ গত ২৬ মে চুক্তি করার সময় শেষ হয়েছে৷ আগামী ৩০ আগস্ট পর্যন্ত এই চাল সংগ্রহ চলবে৷ চুক্তিতে প্রতি কেজি চালের দাম ধরা হয়েছে ৩১ টাকা৷
৪ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত সদর ও মিরপুর উপজেলা থেকে মাত্র এক হাজার ৩০০ টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে৷ চুক্তিভুক্ত কয়েকজন কলমালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কয়েকটি কারণে তাঁরা এবার সরকারকে চাল দিতে পারছেন না৷ এর মধ্যে অন্যতম হলো জেলায় এবার চাল সংগ্রহে তদারক করার জন্য একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ সেসব কমিটিতে ক্ষমতাসীন দলের একাধিক নেতা রয়েছেন৷ ওই সব নেতাকে কমিশন দেওয়া, সরকারি দামের তুলনায় বাইরে বেশি দাম পাওয়া ওলোকসানের ভয়ে তারা চাল দিতে আগ্রহী নন৷আর মোটা চালের জন্য ধান বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে৷
জেলাখাদ্যনিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, চাল সংগ্রহ অভিযান স্বচ্ছ করতে জেলা প্রশাসক জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রককে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলকে তদারকির দায়িত্ব দিয়েছেন৷ এর বাকি সদস্যরা হলেন জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল মজিদ, আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রবিউল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী৷
তবে জেলা বাজার মনিটরিং কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, বাজারে মোটা চাল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকায়৷চুক্তি অনুযায়ী সদর উপজেলার খাজানগরে রশিদ অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্ট থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হবে৷ প্রতিষ্ঠানটির মালিক আবদুর রশিদ বলেন, এবার সংগ্রহ অভিযান ব্যহত হতে পারে৷ কারণ,বাইরে চালের দাম বেশি৷ এ ছাড়া মোটা চালের জন্য ধান অন্যজেলা থেকে পরিবহন খরচ দিয়ে আনতে হচ্ছে৷ তাতে উৎপাদন খরচও বেশি৷
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কলমালিক বলেন, চুক্তি করে বিপদে পড়েছি৷ চাল না দিলে জামানত হারাতে হবে৷ দিলেও নেতাদের কমিশন দিতে হবে৷ আমাদের এমনভাবে মারছে, কাঁদতেও পারছিনে, সইতেও পারছিনে৷
মিলমালিকেরা জানান, চুক্তি করতেও তাদের চাপ দেওয়া হয়েছে৷ আবার চাল দিতেও কমিশন লাগবে৷ জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর মজিদ বলেন, এসব কারণে এবার সরকারকে চাল দেওয়া সম্ভব হবে না৷
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী বলেন, কলমালিকদের বলা হয়েছে ধান কিনে চাল উৎপাদন করে দিতে৷ বাইরে থেকে পুরোনো চাল কিনে দিতে দেওয়া হবে না৷ কমিশন চাওয়ার বিষয়টি সত্য নয় দাবি করে তিনি বলেন, এজেলায় মোটা চালের আবাদ কম হয়৷ এ কারণে চাল দিতে দেরি হচ্ছে৷
ঢাকা, ১৬ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসআর





