‘কর প্রদানে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহন, নিশ্চিত হোক রুপকল্প বাস্তবায়ন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় মাগুরায় শুরু হওয়া আয়কর মেলা শেষ হয় গতকাল বুধবার রাতে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তত্ত্বাবধানে কর অঞ্চল-খুলনার অধিক্ষেত্রাধীন উপ কর কমিশনারের কার্যালয়, সার্কেল-১০ মাগুরায়  আয়কর মেলার আয়োজন করে।

এ সপ্তাহের রবিবার দুপুরে সৈয়দ আতর আলী পাবলিক লাইব্রেরীর মাঠ চত্বরে। মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম।

১৭ থেকে ২০ নভেম্বর ৪ দিন মাগুরায় চলা এ মেলা শেষ হয় বুধবার রাত ৮টায়। এবারের মেলায় আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন ২৭১৫জন। আর আয়কর আহরণ হয়েছে ৬৩ লক্ষ ২শত ৯১টাকা।

এছাড়া ৪ দিনে মেলায় এসে সেবা নিয়েছেন ৪৭২৪জন আর ৪ দিনে নতুন করে কর শনাক্তকরণ নম্বর নিয়েছেন ৮২ জন।

মেলা আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার মেলা শেষ হলেও আগামী ৩০ নভেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত । কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়াই করদাতারা আয়কর অফিসে গিয়ে রিটার্ন জমা দেওয়া কিংবা করদাতা শনাক্তকরণ নম্বরসহ (ই-টিআইএন) অন্যান্য সেবা নিতে পারার কথা। তবে ঐদিন সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় (শনিবার) পরবর্তী খোলার দিন, অর্থাৎ ১ ডিসেম্বর জরিমানা ছাড়াই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া না হলে জরিমানার মুখে পড়বেন করদাতারা। এক্ষেত্রে প্রতিদিনের জন্য ৫০ টাকা হারে জরিমানা গুনতে হবে। সময়মতো রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হলে এবং যথাযথ কারণ না দেখাতে পারলে পূর্ববর্তী বছরের প্রদেয় আয়করের ১০ শতাংশ জরিমানা (যেটি ১ হাজার টাকার কম হতে পারবে না) গুনতে হবে।

অবশ্য নতুন করদাতার ক্ষেত্রে জরিমানা ৫ হাজার টাকা বেশি হবে না। কিন্তু পুরনো করদাতার ক্ষেত্রে এ জরিমানার পরিমাণ হবে পূর্ববর্তী বছরে প্রদেয় করের অর্ধেক। তবে তা ১ হাজার টাকার কম হবে না।

সেক্ষেত্রে যাদের আয়করের পরিমাণ বেশি, তাদের জরিমানাও বেশি। বিদ্যমান আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, প্রত্যেক টিআইএন ধারীকে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। বর্তমানে দেশে টিআইএন ধারীর সংখ্যা ৪০ লাখের ওপরে। যদিও গত বছর রিটার্ন দাখিল করে প্রায় ২১ লাখ করদাতা।

সাইফুল্লাহ/এমআর