ঠাকুরগাঁওয়ে পশুর হাটে প্রচুর গবাদিপশু এলেও জমে ওঠেনি বেচাকেনা। হাটে বিদেশি গরুর আমদানি কম হওয়ায় দেশি গরুর চাহিদা বেড়েছে। আর এ সুযোগে চড়া দাম হাঁকাচ্ছেন খামারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
ফলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যবসায়ীরা গরু না কিনে ফিরে যাচ্ছেন। আবার অনেকে হাটেই আসছেন না। ঠাকুরগাঁও জেলায় এবার ৭০টি হাটে গরু কেনাবেচা শুরু হয়েছে।
খামারিরা জানান, অন্যবারের চেয়ে এবার গরু পালনে বেশি খরচ হয়েছে। একটি গরুর পেছনে বছরে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা খরচ হয়। তাই দাম তুলনামূলক বেশি।
অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, ভারতীয় গরু না আসায় এবার বেশি দামে গরু কিনতে হবে। গতবছর যে গরুর দাম ছিল ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা এবার সে গরু ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকায় কিনতে হবে। পাইকারেরা ভারতীয় গরু না আসায় দেশি গরুর দাম কমাচ্ছেন না।
গরু ব্যবসায়ী ওমর আলী জানান গত বছরের তুলনায় এবার হাটে দেশি গরু বেশি। দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতা গরু দেখে চলে যাচ্ছেন। দেশি গরু পালনে অনেক খরচ হয়েছে। সেই তুলনায় ক্রেতারা দাম বলছেন না।
গরু কিনতে আসা ক্রেতা খলিল উদ্দিন বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম ৫-১০ হাজার টাকা বেশি। কীভাবে গরু কিনব বুঝতে পারছি না।
জেলার মাদারগঞ্জ বাজারের ইজারাদার কুদ্দুস আলী বলেন, চড়া দামের কারণে ক্রেতারা সাপ্তাহিক গরুর হাটের দিন গরু দেখেই ফিরে গেছেন। বাজারে ওইদিন প্রচুর গরু উঠলেও তেমন বেচাকেনা হয়নি।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার সবচেয়ে বড় কয়েকটি হাটে (মাদারগঞ্জ, শিবগঞ্জ, ফাড়াবাড়ি, খোচাবাড়ি) সার্বক্ষণিক তদারকি করার জন্য ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম রয়েছে। যারা সার্বক্ষণিক রোগাক্রান্ত ও ক্ষতিকারক ওষুধে মোটাতাজাকরণ গরু চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেবে।
এ ছাড়া হাটে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের তিনটি টিমও তৎপর রয়েছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, পশু সম্পদ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এই জেলায় যত গরু লালন পালন করা হয়েছে তা এই জেলার চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন এলাকার চাহিদা পুরণ করতে পারবে।
শুধুমাত্র সুষম গো খাবার সরবরাহ করে এই অঞ্চলের গরু মোটাতাজাকরণ করার কারণে ঠাকুরগাঁওয়ে কোরবানির পশুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
এমবি





