কাঁদছে দেশ ও দেশের মানুষ। কাঁদছে এদেশের প্রতিটি বালুকণা। যে কান্নার প্রতিধ্বনি ব্যাথিত করেছে গোটা বিশ্বকে। কফিনে সাজানো ২২জনের নিথর দেহ।লাশের স্তুপে একে একে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরপরেই, ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর একে একে ইতালির রাষ্ট্রদূত ম্যারিও পালমা, জাপানের রাষ্ট্রদূত হরিগুচি, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া ব্লুম বার্নিকাট একের পর এক পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।

পরে নিহত বাংলাদেশী নাগরিকদের স্বজনরা ও হামলায় জীবন দেয়া পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গ শ্রদ্ধা জানান।

এর পর সেনা স্টেডিয়ামে উপস্থিত অন্যান্য দেশের কূটনীতিকগণ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতারা ধারাবাহিকভাবে শ্রদ্ধা জানান।

সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সেনা স্টেডিয়ামে গুলশান হামলায় নিহত ১৭ বিদেশী নাগরিক, ৩ বাংলাদেশী নাগরিক ও দুই পুলিশ কর্মকর্তার লাশের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হয়।

দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের দ্বিতীয় দিন চলছে আজ।। এই শোকের মাতম দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়েছে।

নিহত হলেন যারা:

ইতালির নয়জন: নাদিয়া বেনেদিত্তো, ভিনসেনজো দ আলেস্ত্রো,ক্লদিও মারিয়া দান্তোনা, সিমোনা মন্টি, মারিয়া রিবোলি, আডেলে পুগলিসি, ক্লদিও চাপেলি, ক্রিস্টিয়ান রোসিস ও মারকো তোনডাট।

সাত জাপানি: তানাকা হিরোশি, ওগাসাওয়ারা, শাকাই ইউকু, কুরুসাকি নুবুহিরি, ওকামুরা মাকাতো, শিমুধুইরা রুই ও হাশিমাতো হিদেইকো।

একজন ভারতীয়: তারিশি জৈন।

তিন বাংলাদেশি: ইশরাত আখন্দ, অবিন্তা কবীর ও ফারাজ হোসেন।

নিহত সাত জাপানির মধ্যে ছয়জন মেট্রোরেল প্রকল্পের সমীক্ষা কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে ওই ক্যাফেতে ছিলেন আরও একজন, যাকে পরে উদ্ধার করা হয়।

এর আগে রাতে রেস্তোরাঁয় হামলার পরপরই সেখানে আটকেপড়াদের উদ্ধারে গিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ওসি সালাউদ্দীন হামলাকারীদের বোমার স্প্লিন্টারে নিহত হন।

শনিবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের উপর আস্থা রাখুন। ৩০ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব আমরা যে কোনো মূল্যে রক্ষা করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”

দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ঠেকাতে জনগণকে সক্রিয় হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

এসএম