জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রীষ্মকালীন সময়ে লাউ চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। অসময়ে লাউ চাষ এলাকার কৃষকদের মধ্যে বেশ সাড়া জাগিয়েছে।
সেই সঙ্গে গ্রাহকদের কাছে গ্রীষ্মকালীন সুস্বাদু এই লাউ ইতোমধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। শীতকালীন সবজি হলেও গ্রীস্মকালেও যে সুস্বাদু লাউ উৎপাদন করা সম্ভব কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে বিশেষ জাতের লাউ উৎপাদনের মাধ্যমে তা প্রমাণ করেছে এ উপজেলার চাষিরা।
সাদুল্যাপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, উপজেলায় এবার প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে এই লাউ চাষ শুরু করা হয়। হাইব্রিরড ডায়না জাতের এই লাউ চাষে কৃষকদের প্রথমে উদ্বুদ্ধ করা হয়। পরে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু তারপরও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোট ৩৩ জন কৃষক ঝুঁকি নিয়েই এবারে লাউ চাষ করেন। জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারেও এখন প্রচুর লাউ উঠতে শুরু করেছে। অনেক পাইকারী ব্যবসায়ী এখান থেকে ঢাকাতেও এ লাউ পাঠাচ্ছে। বাজারে প্রতি লাউ ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
দামোদরপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাঙমোড় গ্রামের সবজি চাষি লাভলু মিয়া জানান, ৪০ শতক জমিতে এবার লাউ চাষ করি। ওই জমি পতিত অবস্থায় ছিল। বীজ, চাষ ও বাঁশের মাচা বানাতে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে তিনি তার জমির উৎপাদিত লাউ বাজারজাত করতে শুরু করেছেন। প্রচুর লাউ ধরেছে তার জমিতে। তিনি আশা করছেন, তার ৪০ শতক জমিতে কমপক্ষে ২০ টন লাউ উৎপাদিত হবে। এ থেকে তিনি দুই লাখ টাকারও বেশি আয় করবেন।
একই গ্রামের মানব কুমার অর্ধ বিঘা, আব্দুল মান্নান ১০ শতক ও মনিন্দ্র কুমার তার ৮ শতক জমিতে, ধাপেরহাটের নুর আলম ১০ শতক, চক গোবিন্দপুর গ্রামের আব্দুল বারী, বুজরুক পাটানোছা গ্রামের মোজাম্মেল হক, বিষ্ণুপুরের ইব্রাহিম আলী, দক্ষিণ ফরিদপুরের নুরুল আমিন প্রত্যেকেই তাদের ৫ শতক করে জমিতে লাউ চাষ করেছেন। এছাড়া ভাতগ্রাম, বনগ্রাম, নলডাঙ্গা এবং রসুলপুরসহ অন্যান্য ইউনিয়নেও লাউ চাষ হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সাদুল্যাপুর উপজেলা কর্মকর্তা মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, কৃষকদের লাউ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে যথেষ্ট বুঝাতে হয়েছে। কয়েকজন কৃষক লাউ চাষে প্রশিক্ষণ নিয়েও পরে ঝুঁকিপূর্ণ আর লাউ চাষ করেনি। তাদের সংশয় ছিল এ লাউ বিক্রি হবে না, ভোক্তারা কিনবে না। কিন্তু লাউ চাষের সাফল্যে তারা এখন ভুল স্বীকার করছেন। আগামীতে তারা এ লাউ চাষ করবেন বলে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাধ্যমে ইতোমধ্যে হাইব্রিড ডায়না জাতের লাউ বীজ সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন।
দামোদরপুর এলাকার উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা বলাই চন্দ্র দাস বলেন, হাইব্রিড ডায়না জাতের বীজ ব্যবহার করে এ মৌসুমে এ এলাকায় লাউ চাষে সাফল্য এসেছে। কৃষকদের মধ্যে বেশ সাড়া পড়ে গেছে লাউয়ের ফলন দেখে। যারা এবার লাউ চাষ করেছেন তারা যথেষ্ট লাভবান হবেন বলে তিনি আশা পোষণ করেন।
ঢাকা, ১৪ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





