কুড়িগ্রামের রৌমারীতে খাবারে বিষ মিশিয়ে স্বামীকে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিহতের মা তারা বানু বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে পুলিশ গতকাল বুধবার রাতেই নিহতের স্ত্রী আশুরা খাতুনের ছোট বোন হেনা পারভীনকে গ্রেপ্তার করেছে। নিহতের স্ত্রী পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলে পুলিশ জানিয়েছে। গত মঙ্গলবার উপজেলার শৌলমারী সবজুপাড়া গ্রামে বিষ মেশানো খাবার খাওয়ার পর গতকাল সন্ধ্যার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তাহেরুল।

রৌমারী থানা পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে স্ত্রী আশুরা খাতুন (২৫) তার বোনের বাড়িতে ডেকে নেন স্বামী তাহেরুল ইসলামকে (২৮)। এরপর পরিকল্পিতভাবে তিনি রাতে ভাতের সঙ্গে বিষাক্ত কীটনাশক মিশিয়ে খাবার দেন স্বামীকে। খাওয়া শেষ হতে না হতেই তাহেরুল ইসলাম বুঝতে পারেন তাকে বিষ মেশানো খাবার দেওয়া হয়েছে।

এ সময় তিনি খাওয়া বন্ধ করে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার আরো অবনতি হলে প্রথমে তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল ও পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর মারা যান তাহেরুল ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল থেকে নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে রৌমারীতে আনা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯ বছর আগে উপজেলার শোলমারী সবুজপাড়া গ্রামের হবি মোল্লার মেয়ে আশুরা খাতুনের বিয়ে হয় একই উপজেলার ইজলামারী গ্রামের জহর উদ্দিনের ছেলে তাহেরুল ইসলামের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকে শান্তিতেই চলছিল তাদের সংসার। তাদের ঘরে দুই ছেলে সন্তানও রয়েছে। গত পাঁচ মাস ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ কারণে স্ত্রী আশুরা খাতুন তার স্বামীর বাড়িতে যাতায়াত বন্ধ করে দেন।

নিহতের মা তারা বানু সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন বলেন, "আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে ছেলের বউ আশুরা খাতুন এবং বউয়ের বোন হেনা পারভীন। এর সঙ্গে আরো জড়িত থাকতে পারে। আমি ওই নীরব ঘাতকদের ফাঁসির দাবি জানাই।"

রৌমারী থানার ওসি এ বি এম সাজেদুল ইসালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "এরই মধ্যে হেনা পারভীন নামে এক খুনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী নিহতের স্ত্রী আশুরা খাতুনসহ অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তবে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।"

এমএম