ভয়াবহ তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন। সঙ্গে  বাড়ছে লোডশেডিংও। রাজধানীতে প্রতিদিন সর্বনিম্ন ৩ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। জেলা ও উপজেলাগুলোতে চলছে লোডশেডিং। বলা যায়, তাপপ্রবাহ ও লোডশেডিংয়ের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। যার ফলে সেচকাজসহ কলকারখানার যাবতীয় উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1400580709.jpg[/img]
অপরদিকে তীব্র তাবদাহের কারণে পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় খাবার পানিরও তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। রাজধানীর কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ‘এমনিতে প্রচন্ড তাপ প্রবাহ চলছে। তার মধ্যে আবার তীব্র লোডশেডিং। এ কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে শিশুরা। ওরা গরম সহ্য করতে পারে না।
কেউ কেউ বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে যন্ত্রণার মাত্রা আরেকটু বাড়িয়ে দেয়। রাতের বেলায় তো শান্তিতে ঘুমানোই দায়। মধ্যরাতে লোডশেডিংয়ের কারণে হাত পাখা দিয়ে বাতাস করতে করতে হাত ব্যথা হয়ে যায়, কিন্তু বিদ্যুৎ আসার নাম নেই। কখনো কখনো আইপিএসও বেক অ্যাপ দেয় না।’
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1400580452.jpg[/img]
মধ্যবাড্ডা এলাকার শরিফুল ইসলাম বলেন,রাতের বেলা লোডশেডিংয়ের কারণে ঠিকমত ঘুমাতে পারি না। মধ্য রাত পর্যন্ত বিদ্যুতের অপেক্ষায় বাইরে হাঁটাহাঁটি করতে হয়। কখনো অতিষ্ট বাড়ি ছাদে গিয়েও ঘুমানোর চেষ্টা করি। কিন্তু সেখানে আবার মশার জ্বালা।
এদিকে, কয়েকদিন যাবত ডিপিডিসি'র আওতাধীন রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা পল্টনে চলছে ভয়াবহ লোডশেডিং। জানা গেছে, দিনের বেলায়ই বিদ্যুৎ চলে যায় তিনবার। প্রথম বেলা এগারটার দিকে বিদ্যুৎ যাওয়ার পর আসে দুপুর একটায়। আবার আড়াইটায় যায় আসে বিকাল সাড়ে তিনটায়।  এমনিভাবে দিনের বেলায় বিদ্যুৎ ছিল না প্রায় পৌনে চার ঘণ্টা।  দিনভর লোডশেডিংয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল দোকান-পাট,অফিস এবং ক্ষুদ্র কারখানা মালিকরা। এলাকাবাসীর মধ্যে তৈরি হচ্ছে চাপা ক্ষোভ। এছাড়া, ঝিগাতলা, কলাবাগানসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় সীমিত আকারে লোডশেডিং ছিল।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1400580508.jpg[/img]
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের জনসংযোগ (পিডিবি) কর্মকর্তা সাইফুল হাসান চৌধুরী জানান, প্রচন্ড গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। মেঘনাঘাটে একটি বিদ্যুৎ প্লান্ট নষ্ট থাকার কারণে লোডশেডিং হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। আর চাহিদা হচ্ছে ৭ হাজার ৪ থেকে ৫০০ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করা হয়।’
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1400580564.jpg[/img]
রাজধানীতে বিদ্যুৎ বিতরণে নিয়োজিত দুইটি সংস্থার মধ্যে ডিপিডিসি নারায়ণগঞ্জসহ রাজধানীর আটটি সার্কেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। এগুলো হচ্ছে_ আজিমপুর, তেজগাঁও, সাত মসজিদ, রমনা, শ্যামপুর, বাংলাবাজার, নারায়ণগঞ্জ এবং মতিঝিল। আর ডেসকো ঢাকার কাফরুল, পল্লবী, রূপনগর, মিরপুর-১, গুলশান, উত্তরা, বারিধারা, দক্ষিণখান, টঙ্গী, কল্যাণপুর, আগারগাঁও এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1400580595.jpg[/img]
আবহাওয়া অধিদফতরের কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানান, ‘দীর্ঘ মেয়াদের জন্য তথ্য তাদের কাছে নেই। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, আগামী কয়েক দিন পরই বৃষ্টিপাত হবে। এর পাশাপাশি মৌসুমী বায়ু সক্রিয় হবে।’
আবহাওয়া অধিদফতরের অপর কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, ‘সারাদেশে গত মার্চে বৃষ্টিপাতের কথা ছিল ৫২ মিলিমিটার। কিন্তু এবার হয়েছে মাত্র ১৮ মিলিমিটার, অর্থাৎ মাত্র ৬৬ ভাগ কম বৃষ্টি হয়েছে গত মার্চে।’ তিনি বলেন, ‘চলতি মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত সারাদেশে বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ছিল ১৩০ মিলিমিটার, কিন্তু হয়েছে মাত্র ২২ মিলিমিটার। তবে সামনে কী হবে এখনই তা বলা যাচ্ছে না।’
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1400580652.jpg[/img]
গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সম্প্রতি সারাদেশে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের অর্জিত সাফল্য এখন প্রশ্নে মুখে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ সেচের দবিতে এবং গ্রীষ্মের দাবদাহে অতিষ্ঠ হয়ে বিদ্যুতের দাবিতে মানববন্ধন, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সড়ক অবরোধের মত আন্দোলনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এদিকে, দেশে এক সেকেন্ডেরও লোডশেডিং নেই বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যকে হাস্যকর বলে মন্তব্য করছে মানুষ। অপরদিকে, জনগণ যাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অতীত ইতিহাস ভুলে না যায় সেজন্য মাঝে মাঝে লোডশেডিং প্রয়োজন, বিদ্যুৎ উপদেষ্টার এমন বক্তব্যেরও তুমুল সমালোচনা চলছে সারাদেশে।
[b]ঢাকা, ২০ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ[/b]