বুড়িমারী স্থলবন্দর শ্রমিকদের দু'দিন ব্যাপী স্বাস্থ্য ক্যাম্প শেষে বুড়িমারী ইউপি ভবনে আজ বিকেল তিনটায় নিহত ও আহত শ্রমিকদের মামলা বিষয়ে সচেতনতা মূলক এক আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাত এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সেফটি এন্ড রাইটস সোসাইটি'র প্রোগ্রাম অফিসার সিথী ঘোষ, লিগ্যাল অফিসার এ্যাডভোকেট হাসিনা খানম,দৈনিক সংবাদের পাটগ্রাম প্রতিনিধি সামিউল ইসলাম সানী,শ্রমিক নেতা আব্দুল মমিন,আজানুর,শ্রমিক মতিউল,আঃ রশিদসহ আরও অনেকে।
এসময় দু'দিনে স্বাস্থ্য ক্যাম্পে ২৯৬ জন শ্রমিকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় বলে জানানো হয়।এদেরকে বিনামূল্যে ঔষধ ও মাস্ক দেয়া হয়।রাজশাহী শ্রম আদালতে দায়েরকৃত ৬৫ টি মামলার মধ্যে ১৫৮ ধারায় ১১ টি মামলা খারিজ হয়েছে।
মেশিন মালিকপক্ষের অনুপস্থিতিতে ৯ টি মামলার একতরফা রায় হয়েছে।শ্রম আদালতের আদেশে বলা হয়েছে যে, শ্রমিকদের ১লাখ ২৫ হাজার টাকা করে মালিকপক্ষ প্রদান করবেন কিন্তু মালিকপক্ষ এতে কোন সাড়া না দেয়ায় আইনী জটিলতা শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়।
বুড়িমারী শ্রমিকদের পাশে থেকে অধিকার আদায়ে সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন বুড়িমারী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাত।আগামীকাল থেকে শুরু হবে কারখানা ও শ্রমিক তালিকার কাজ।শতশত কারখানায় হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হলেও ঘুলিয়ে পরিবেশ বিপর্যয় নেমে এসেছে।মৃত্যুর ঝুকি নিয়ে বুড়িমারীতে শ্রমিকরা এবার জেগে উঠেছেন।অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে আন্দোলন করবেন বলে সভার সিদ্ধান্ত হয়।
এর আগে বুড়িমারী বন্দরে সিলিকোসিস রোগে আক্রান্ত শ্রমিকদের শ্রম মন্ত্রনালয়ের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের যৌথ সহযোগিতায় দুইদিন ব্যাপী স্বাস্থ্য ক্যাম্পের প্রথম দিনে পাথর ভাঙ্গার কাজে নিয়োজিত অসুস্থ্য ৩০০ শ্রমিকের মধ্যে ১২৪ জন শ্রমিকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সোমবার দুপুরবেলা কলকারখানা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অতিরিক্ত সচিব ছামসুজ্জাজামান বুড়িমারীতে স্বাস্থ্য ক্যাম্প পরিদর্শনে আসেন।এ সময় তিনি বন্দর শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন।।স্বাস্থ্য সুরক্ষা রাখতে মাস্ক ব্যবহারের উপর অধিক গুরুত্ব দিয়ে তিনি শ্রমিকদের সিলিকোসিস রোগ ও কর্ম পরিবেশ নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
তিনি বলেন,বুড়িমারীতে অবস্থিত গ্রাইন্ডার মেশিনগুলো অবৈধ।এগুলোর অনুমোদন নেই।অনেকদিন ধরে এসব মেশিন চলছে।মেশিন মালিকরা শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করবেন।আহত বা নিহত হলে আর্থিক সহায়তা দিতে বাধ্য থাকবেন।
বুড়িমারীতে মালিকরা বেপরোয়া বলে এদের বিরুদ্ধে শ্রম আইনে মামলা করার নির্দেশ দেন তিনি।এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলকারখানা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ভুঁইয়া,যুগ্ম মহাপরিচালক মঞ্জুর কাদের খান,যুগ্ম মহাপরিদর্শক ডাক্তার সৈয়দ আবুল এহসান,রংপুর, উপ-মহাপরিদর্শক আবদুল কাইউম,পাটগ্রাম ইউএনও নুরকুতুবুল আলম,বুড়িমারী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাত,স্বাস্থ্য ও প,প কর্মকর্তা ডাক্তার হাসনাত ইউসুফ জাকিসহ আরও অনেকে।
স্বাস্থ্য ক্যাম্পের ডাক্তার নবীণ কুমার হাওলাদার,ডাক্তার রঞ্জন তালুকদার, ডাক্তার বিথী বিশ্বাস, ডাক্তার নাজমুন নাহার, ডাক্তার কল্লোল শ্রমিকদের স্বাস্থ্য দেখে ঔষধপত্র মাস্ক বিতরণে সহায়তা করেন।সেফটি এন্ড রাইটস সোসাইটির প্রোগ্রাম অফিসার সিথী ঘোষ, লিগাল অফিসার হাসিনা খানম জানান, বুড়িমারীতে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও আইনী সাপোর্ট দেয়ার জন্য মামলা ও আর্থিক সহায়তা দিতে অনেক আগে কাজ শুরু করেছেন।
এটা তাদের অব্যাহত থাকবে।শ্রমিকরা রাজশাহী শ্রম আদালতে ৬৫ মামলা করেছেন।১১টি মামলা খারিজ হয়েছে তবে আপীল করা হবে।শ্রমিক নেতা মমিন,আজানুর জানান,সরকারের কাছে শ্রমিকরা বেঁচে থাকার আকুতি জানান। শ্রম আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ চান।
১৯৮৮ সালে ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য দিয়ে বন্দর চালু হয়।পরবর্তীতে ভারত নেপালের সঙ্গে ও চলছে বাণিজ্য।মোজাইক পাথর কর্জাইট আমদানীর ফলের ২০০৩ সাল থেকে শ্রমিকরা অসুস্থতা অনুভব করতে থাকে।
নাক মুখ দিয়ে পাথরের গুড়া ধূলিকণা প্রবেশ করে ঘনঘন শ্বাসপ্রশ্বাস,বমিবমিভাব, খাওয়ার অরুচি,ফুসফুসে প্রলেপ,মাথা ব্যাথা লক্ষণ নিয়ে অনেকে আরডিআরএসের টিপি যক্ষা রোগের ভুল চিকিৎসার কারনে মৃত্যুবরণ করেন।
২০১২ সালে জাতীয় বক্ষব্যধী হাসপাতালের চিকিৎসকরা সিলিকোসিস রোগটি সনাক্ত করেন।এ রোগে এ পর্যন্ত বেসরকারি হিসাব মতে ৬৭ জন শ্রমিকের প্রাণ গেছে।
এমএ





