দুই স্কুল ছাত্রী সুমাইয়া ও হ্যাপীর নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে নিহত সুমাইয়ার পিতা বেল্লাল শিকদার। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা আমলে নিয়েছে পুলিশ।
রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে রয়েছে পুলিশ ও সিআইডি। শুক্রবার সকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সালমা বেগম ও রহিমা বেগম নামে ২ মহিলাকে আটক করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট ৪ জনকে আটক করা হলো। গঠন করা হয়েছে ৫ সদস্য তদন্ত কমিটি।
শুক্রবার সকালে মস্তফাপুর গ্রামের সন্দেহভাজন রানার মা সালমা বেগম এবং ফজলুল কবিরের ছেলে মেহেদির মা রহিমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে সদর থানার পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই মেহেদি ও রানাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য পলাতক রয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও নিশ্চিত করে বলা হয়নি দুই স্কুল ছাত্রী সুমাইয়া ও হ্যাপীর নিহতের কারণ। তবে সুমাইয়া ও হ্যাপী’র পরিবারের পক্ষ হতে দাবি করা হচ্ছে, ধর্ষণের পরেই জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয় তাদের।
মাদারীপুর সদর থানার সেকেন্ড অফিসার ফায়েকুজ্জামান জানান, ধারণা করা হচ্ছে মস্তফাপুর একই গ্রামের সৈকত খলিফার ছেলে রাণার সঙ্গে দুই বান্ধবীর দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। বিষয়টি প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে ত্রিভূজ প্রেমের ঘটনা বলে মনে হচ্ছে।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার আটককৃত শিপন ও রাকিব জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, মেহেদি ও রাণা নিহত দুই স্কুল ছাত্রীকে ভ্যানে করে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে দেখে তারা হাসপাতালে আসে।
এদিকে, জেলা প্রশাসক মো. কামাল উদ্দিন বিশ্বাস এবং মাদারীপুর পুলিশ সুপার সরোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার মস্তফাপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার (১৪) ও তার সহপাঠি প্রতিবেশী মস্তফাপুর গ্রামের হাবিব খার মেয়ে এবং ওই স্কুলের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী হ্যাপি আক্তার (১৪) নিখোঁজ হন। বিকালে অচেতন অবস্থায় ৪ যুবক ওই দুই ছাত্রীকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে রেখে দুইজন পালিয়ে যায়। নিহতের পরিবালের লোকেরা লোকমুখে খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে সুমাইয়া ও তার বান্ধবী হ্যাপীর লাশ দেখতে পায়। পুলিশ সন্ধ্যায় হাসপাতাল এলাকা থেকে শিপন ও রফিক নামে দুই যুবককে আটক করে।
এএইচ





