রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ চার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে তিন শতাধিক সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গাছ কেটে নিতে সহযোগিতা করেছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। অভিযোগের ব্যাপারে চেয়ারম্যান জানান, তিন শতাধিক নয়, কয়েকটি গাছ কাটা হয়েছে।
উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, আউচপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহাতাবুর রহমান তার এলাকার হাটগাঙ্গোপাড়া থেকে খালগ্রাম এবং কামারপাড়া সড়কের সম্প্রসারণ কাজের জন্য কয়েকটি গাছ কাটা প্রয়োজন বলে পরিষদের মাসিক সভায় অবহিত করেন। এর প্রেক্ষিতে উভয় সড়কের ৪৪টি গাছ চিহ্নিত করে সেগুলো বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে হাটগাঙ্গোপাড়া থেকে খালগ্রাম সড়কের সম্প্রসারণ কাজ শুরু হলেও হাটগাঙ্গোপাড়া থেকে কামারপাড়া সড়কের কোনো প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন এলজিইডি বাগমারার উপসহকারী প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার সিংহ।
উপজেলা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ১২ নভেম্বর উম্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে ৪৪টি গাছ বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করেন। ওই দিন সহকারী কমিশনারের উপস্থিতিতে উম্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে ৯১ হাজার টাকায় আউচপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ও একই কমিটির সদস্য আফসার আলী ৪৪টি গাছ কিনে নেন।
এরপর গত ২২ নভেম্বর শনিবার থেকে আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম, আফসার আলী, কর্মী পলাশ ও আফজাল হোসেন লোকজন নিয়ে গাছ কাটা শুরু করেন। বৃহস্পতিবারও কয়েকটি গাছ কাটা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাবলা, রেন্ট্রি কড়ই ও মেহগনিসহ কয়েকটি জাতের প্রায় তিন শতাধিক গাছ কাটা হয়েছে। সড়কের পাশে কাটা গাছের ডালপালা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। অনেক গাছের গোড়া মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। কাটা গাছের গুড়ি গাড়িতে ওঠাতে দেখা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আউচপাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম ও আফসার আলী তাদের সহযোগীদের নিয়ে ৪৪টি গাছের পরিবর্তে তিন শতাধিক সরকারি গাছ কেটে নিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাছগুলো কেটে দ্রুত ট্রলিতে করে সরানো হয়েছে। নির্বিচারে কেন গাছ কাটা হচ্ছে এবিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাইলে উল্টো বকাবকি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
আউচপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহাতাবুর রহমান নিজে গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেতা শহিদ ও আফসার গাছগুলো কেটেছেন। তারা আমার সহযোগিতা চেয়েছেন, তাই উপস্থিত থেকে তাদের গাছ কাটতে সহযোগিতা করেছি। তবে তারা অতিরিক্ত কয়েকটি গাছ কেটেছে বলে স্বীকার করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে আউচপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, আমি শুধু টেন্ডারের মাধ্যমে পাওয়া বাবলা গাছ কেটেছি। অন্য গাছ আওয়ামী লীগের আরেক নেতা কেটেছেন। তবে আওয়ামী লীগের অন্য নেতা-কর্মীরা গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তরিকুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেআই





